অবশেষে জটিলতার অবসান হলো সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথের: ২০২৩ সাল নাগাদ কাজ শুরু

অবশেষে জটিলতার অবসান হলো সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথের: ২০২৩ সাল নাগাদ কাজ শুরু

ন্যাশনাল ডেস্কঃ



বহুল প্রতীক্ষিত বগুড়া থেকে শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণের উদ্দেশ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বিস্তারিত নকশা তৈরি, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং নির্মাণ তদারকি কার্যক্রম এর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং ভারতীয় কনসালটেন্সি সার্ভিস রাইটস এবং আরভি অ্যাসোসিয়েটস আর্কিটেক্টস ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড কনসালটেন্টস প্রাইভেট লিমিটেডের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

আজ সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রেল ভবনে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কে দোরাইস্বামীর উপস্থিতিতে সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়। সব মিলিয়ে দেড় থেকে দুই বছর লাগবে এসব প্রক্রিয়া শেষে কাজ শুরু করতে। ২০২৩ সালের শেষভাগে গিয়ে প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে।

চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষে প্রকল্প পরিচালক মোঃ আবু জাফর মিঞা এবং কনসালটেন্সি সার্ভিস এর পক্ষে ভারতের রাইটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্জয় আগারওয়াল।



অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রী মোঃ নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, এ লাইনটি তৈরি উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি। নতুন এ রেল লাইনের মাধ্যমে সমগ্র উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সহজ যোগাযোগ স্থাপিত হবে, সময় কমে যাবে । তিনি বলেন বর্তমান সরকার রেল ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে । বাংলাদেশের রেল ব্যবস্থা যমুনা সেতু দ্বারা বিভক্ত। পশ্চিমাঞ্চলে মিটার গেজ লাইন এবং পূর্বাঞ্চলে ব্রডগেজ লাইন। বর্তমান সরকার সারাদেশকে একই ভাবে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য পর্যায়ক্রমে ডাবল লাইন করা হচ্ছে ।

চুক্তি অনুযায়ী, ৯৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বিনিময়ে ভারতের আরআইটিইএস লিমিটেড নেতৃত্বাধীন যৌথ প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পের সমীক্ষা প্রতিবেদন (ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্ট) হালনাগাদ, পূণার্ঙ নকশা এবং টেন্ডারের নথিপত্র প্রস্তুত করবে। এ ছাড়া, রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প কাজের বাস্তবায়ন শুরু হলে তদারকিও করবে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ হাজার ৫৮০ কোটি টাকায় সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে ঢাকা-রংপুর বিভাগের জেলাতে ট্রেন যায় পাবনার ঈশ্বরদী ঘুরে বগুড়ার সান্তাহার হয়ে। এ কারণে শত কিলোমিটার বাড়তি পথ পাড়ি দিতে হয় উত্তরের যাত্রীদের। নতুন রেলপথ নির্মাণ হলে এই দূরত্ব কমে হবে ২১২ কিলোমিটার। ১১২ কিলোমিটার দূরত্ব কমায় আশা করা হচ্ছে অন্তত তিন ঘণ্টা সাশ্রয় হবে।