আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস

আহসান কবির



শিক্ষাদানের মহান ব্রত যার কাজ তাকেই শিক্ষক বলে। স্কুল কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয় সহ সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে  শিক্ষাদানের কাজে নিয়োজিত দেরকেই শিক্ষক বলে।তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এ যারা শিক্ষাদানের কাজে আছেন তাদের শিক্ষক বলা হয়। আর যারা বিশ্ব বিদ্যালয় শিক্ষাদানের কাজে নিয়োজিত রয়েছে তাদের প্রভাষক ও অধ্যাপক বলা হয়।এছাড়া কোচিং সেন্টার প্রাইভেট টিউটর টিউশনিতে যারা শিক্ষা দান করেন তাদের কেউ শিক্ষক বলা হয়। শিক্ষকদেরকে শিক্ষিত জাতি গঠনের কারিগর বলা হয়।শিক্ষকদের অবশ্যই ন্যায় নীতি  পরায়ন ও আদর্শ চারিত্রিক গুনে গুণান্বিত হতে হবে। কেননা একজন আদর্শ শিক্ষক পারেন তার অনুসাীদের  ন্যায় শিক্ষা দিতে ।একজন শিক্ষক তার স্বীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ  করে তাদেরকে দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন।

বিশ্ব কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর এর মতে, উত্তম শিক্ষক হবেন উত্তম ছাত্র, শিক্ষকের ছাত্রত্ব  গ্রহনে তার মনের তারুন্য নষ্ট হতে পারে না, বরং তিনি সব সময় ছাত্রদের সুবিধা অসুবিধা ভালোভাবে বুঝতে সক্ষম হবেন। স্যার জন এজামস এর মতে, শিক্ষক হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর।

পর্সিভল রেন এর মতে, শিক্ষক শিশুর বন্ধু পরিচালক ও যোগ্য উপদেষ্টা এবং চরিত্র গঠনের নিয়ামক ।  
বস্তুত শিক্ষককে জীবন্ত উপাদান নিয়ে কাজ করতে হয় বলেই শিক্ষকতা একটি উচু মনের শিল্প । মাত্র কয়েক বছরের একটি ছোট শিশুকে যে কিনা পঞ্চ ইন্দ্রিয় দ্বারা তাড়িত হতে থাকে তাকে প্রতিদিন বিভিন্ন আয়োজন ও উপাদানের মাধ্যমে একটু একটু করে শিক্ষিত মানুষের দিকে এগিয়ে দিতে হয়।শিশুদের আগামী দিনের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষক তার নিজের সবটুকু উজাড় করে দেন। 

আদর্শ শিক্ষকের গুণাবলী 
১) শিক্ষককে অবশ্যই শিক্ষিত হতে হবে। 
২) শিক্ষক অবশ্যই সহনশীল হবেন। 
৩) সুন্দর বাচনভঙ্গি;
৪) আকর্ষনীয় উপস্থাপনা কৌশল;
৫) উত্তম চারিত্রিক গুণের অধিকারী। 
৬) তিনি হবেন চমৎকার বাকশৈলী চাহনী সম্পন্ন 
৭) সততা ও ন্যায় পরায়ন
৮) তিনি হবেন শান্ত মেজাজের এবং পরিমিত বোধ সম্পন্নশিক্ষকতার চেয়ে মহৎ ও শ্রেষ্ঠ পেশা আর হতে পারেনা। এটি যেমন সন্মানজনক তেমনি রয়েছে আত্নতৃপ্তি। আছে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অন্যদের মাঝে স্থানান্তরের আনন্দ। 


একজন আদর্শ শিক্ষক ধর্ম বর্ন , শ্রেণী নির্বিশেষে সবার কাছেই শ্রদ্ধেয়। সব দেশে সব সমাজে শিক্ষকেরা বিশেষ মর্যাদ পেয়ে থাকে। কিন্তু অত্যান্ত দুঃখের ও লজ্জার বিষয় আজ সমাজে শিক্ষকদদের সেভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। অনেক শিক্ষক আজ নির্যাতিত নিপড়িত। ছাত্র নামের কিছু কুলাঙ্গার দ্বারা শিক্ষক নির্যাতনের ঘটনা অহরহ ঘটছে যা আমাদের জন্য অত্যান্ত লজ্জার অপমানের। আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের মানবতা কোন পর্যায় পৌঁচেছে আমাদের শ্রদ্ধা বোধ। হে ছাত্র তোমাকে বলছি তোমার শিক্ষক অপমানিত হচ্ছে আর তুমি সহ্য করে নীরবে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছো। আল্লাহ তোমায় ক্ষমা করবে না । 

এক হাদীসে রাসলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, পিতা মাতা পরেই শিক্ষকদের অবস্থান। পিতা মাতা শিশুকে জন্ম দেয়, আর শিক্ষক তাকে মানুষ রূপে গড়ে তুলে। বর্তমান সময় শিক্ষকতা পেশাকে নানান কারনে অনেকেই ছোট করে দেখেন, ফলে শিক্ষকরাও ভোগেন নানান ধরনের হীনমন্যতায় । অনেক শিক্ষক আবার সেবার মনোভাব ভুলে শিক্ষা বানিজ্য চালিয়ে ছুটছেন অর্থের পিছনে। শিক্ষকরা জাতির কান্ডারী, পথ প্রদর্শক । তাই তাদের উচিৎ শিক্ষাথীদের কাছে তাদের ভাবমূর্তি রক্ষা করা ।  শিক্ষার্থীরা তার মা বাবার চেয়ে বেশি প্রভাবিত হতে পারেন তার শিক্ষক দ্বারা। শিক্ষকদের সন্মান দিন।