ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লো আয়ারল্যান্ড

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লো আয়ারল্যান্ড

স্পোর্টস ডেস্কঃ



ম্যাচের শুরুতেই বৃষ্টি। মনের মধ্যে কি উঁকি দিচ্ছিল ২০১০ সালের ম্যাচের কথা! হয়তো বা। তাই টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকে চড়াও হলো আয়ারল্যান্ড। ঘন ঘণ বৃষ্টি নামার পর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সুফল পেলো তারা। ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে এবার ৫ রানে ইংল্যান্ডকে হারালো আইরিশরা। ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বেঙ্গালুরুতে ব্যাটিং তাণ্ডব চালিয়ে জেতার পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ঐতিহাসিক জয় পেলো তারা।

১২ বছর আগে গায়ানায় ইংল্যান্ডকে ১২০ রানে থামিয়ে দিয়ে দারুণ শুরু করেছিল আয়ারল্যান্ড। কিন্তু আইরিশদের ইনিংসের শুরুতেই বৃষ্টি নেমে পণ্ড করে দিয়েছিল ম্যাচ, হারতে হারতেও পয়েন্ট ভাগাভাগি করে সেরা আটে জায়গা করে নেয় ইংল্যান্ড, আর বিদায় নিতে হয় আয়ারল্যান্ডকে।  ওইবার চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল ইংলিশরা।

ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের টি-টোয়েন্টিতে দেখা হয়েছিল ওই একবারই। এক যুগ পর আবারও মুখোমুখি তারা মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। অনেক ইতিহাসের সাক্ষী এই মাঠে এবার বিখ্যাত জয় পেয়ে গেলো আইরিশরা।

অ্যান্ডি বালবির্নির ৪৭ বলে ৬২ রানের ঝড়ে বড় সংগ্রহের আভাস দিলেও ১৫৭ রানের বেশি হয়নি আয়ারল্যান্ডের। কিন্তু এই রানও যে অসাধ্য সাধনের মতো হয়ে যাবে, ইংল্যান্ড কল্পনাও করতে পারেনি। পাওয়ার প্লেতেই নেই ৩ উইকেট। জশ লিটলের প্রথম দুই ওভারে জস বাটলার (০) ও অ্যালেক্স হেলস (৭) বিদায় নেন। বেন স্টোকসও (৬) সুবিধা করতে পারেননি, স্কোরবোর্ড ত্রিশ ছোঁয়ার আগেই আউট তিনি।

এরপর হ্যারি ব্রুক ও ডেভিড মালান প্রতিরোধ গড়েছিলেন। তাও ভেঙে গেলে আবার মহাবিপদে পড়ে ইংল্যান্ড। একশ করার আগেই ৫ উইকেটের পতন। ৮৬ রানে দলের অর্ধেক ব্যাটসম্যান প্যাভিলিয়নে ফিরলে মঈন আলী মাঠে নেমে দ্রুত রান তুলতে চেষ্টা করছিলেন। ১২ বলে তিন চার ও ১ ছয়ে ২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। ১৫তম ওভারে তার তৃতীয় বাউন্ডারির পরই নামে বৃষ্টি। যখন তাদের স্কোর ৫ উইকেটে ১০৫, জেতার জন্য থাকতে হতো ১১০! প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষার পরও বৃষ্টি না থামায় ম্যাচ সমাপ্তির ঘোষণা দেন আম্পায়ার, অবিশ্বাস্য জয় পেয়ে যায় আয়ারল্যান্ড।

এই জয়ে গ্রুপ-১ এ ২ ম্যাচ শেষে ২ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আয়ারল্যান্ড। সমান পয়েন্ট পেলেও নেট রান রেটে তাদের পেছনে ইংল্যান্ড।