উল্লাপাড়ায় সংকট হবে না ধান কাটা শ্রমিকের - কৃষি বিভাগের অনুমতি নিয়েই যেতে হবে শ্রমিকদের

উল্লাপাড়ায় সংকট হবে না ধান কাটা শ্রমিকের - কৃষি বিভাগের অনুমতি নিয়েই যেতে হবে শ্রমিকদের

সাহারুল হক সাচ্চু (উল্লাপাড়া): সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আবাদী মাঠের পর মাঠ জুড়ে এখন বছরের প্রধান ইরি ধান ফসল প্রায় সব মাঠেই ধানের ছড়া বেড়িয়েছে আগাম করে লাগানো ইরি ধানে পাক ধরেছে এবারের মৌসুমে উল্লাপাড়ায় ইরি ধান কাটতে শ্রমিক সংকট হবে না বলে ধারনা পাওয়া গেছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ গ্রামীন গৃহস্থ্য পরিবার গুলোর কাছ থেকেই জোরালো ভাবে ধারনা মিলেছে এদিকে করোনা মোকাবেলায় সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ধান কাটা এবং সচেতনতা বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামশ দেয়া হচ্ছে কৃষি বিভাগের অনুমতি ছাড়া এক এলাকার শ্রমিক অন্য এলাকায় কাজে যেতে পারবে না

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে উল্লাপাড়ায় এবারে ৩০ হাজার ১শ ৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ইরি ধান আবাদ হয়েছে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের সব মাঠেই ধান ফসলের আবাদ হয়েছে কৃষকেরা ব্রি-২৯ জাতের ধান বেশি পরিমান জমিতে আবাদ করেছে অন্য জাত গুলো হলো-ব্রি-২৮, ব্রি-৫৮, ব্রি-৫১.ব্রি-৭৪ হাইব্রিড উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আজমল হক জানান, গোটা উপজেলায় প্রায় ৯৪ হাজার জন কৃষি পেশায় জড়িত আছেন এর মধ্যে প্রায় অর্র্ধেক নিজ জমিতে কৃষি কাজের পাশাপাশি অন্যের জমিতে কৃষি কাজে মজুরী বেচে থাকেন উল্লাপাড়ায় বিভিন্ন গ্রামে বিপুল সংখ্যক দিন আয়ে সংসার চলে এমন ব্যক্তিরা মাঠে কাজ না থাকলে অন্য পেশায় কাজে বাইরে চলে যায় আবার ধান কাটা শুরু হলে এলাকায় ফিরে আসেন এবারের চিত্র পুরোপুরী আলাদা এসব শ্রমিকেরা বাইরে যেতে পারেনি এরা সবাই বাড়ি থাকছে এদিকে উল্লাপাড়ায় বিপুল সংখ্যক তাঁত শ্রমিক রাজমিস্ত্রি, দোকান কর্মচারী, গার্মেন্টস শ্রমিক, মাটিকাটা শ্রমিক রয়েছে এদের সংখ্যা ১৮ থেকে ২০ হাজার হবে এরাই সবাই গ্রামের বসতি করোনা সচেতনতায় তাদের পেশায় কাজ বন্ধ থাকায় এরাও বাড়িতে থাকছে খোজ নিয়ে জানা যায়, উল্লাপাড়ায় ইরি ধান কাটা মৌসুমে এক ইউনিয়নে শ্রমিক তাদের এলাকায় ধান কাটা শেষে অন্য এলাকায় গিয়ে ধান কাটা মুজুরী বেচে থাকেন এক বিঘা জমিতে ধান কাটতে সবোর্চ্চ জন শ্রমিকের দরকার হয় এখন মাঠের কাজে একজন মজুরের দাম ৩শ টাকা

                আর সপ্তাহ দেড়েক পর থেকেই ইরি ধান কাটা শুরু হবে আগাম আবাদ করা হয়েছে এমন দুএকটি জমিতে ধান কাটা হচ্ছে স্থানীয় কৃষি অফিসের বক্তব্যে মাঠ পর্যায়ে খোজ নিয়ে আভাস মিলেছে, উল্লাপাড়ায় ধান কাটা শ্রমিক সংকট হবে না এবারে কৃষি পেশার শ্রমিকের পাশাপাশি অন্য পেশার শ্রমিকরা ধান কাটায় মজুরী বেচবে              নাগরৌহা গ্রামের একাধিক কৃষক কৃষি শ্রমিক জানান, তাদের মাঠে ধান কাটায় অন্যে এলাকার শ্রমিকের দরকার হয় না গ্রামের থেকে সাড়ে ৩শ অন্যে পেশার শ্রমিক বাড়িতে আছে এরা মাঠের কাজে ধান কাটায় শ্রম বেচবে

                উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্না ইয়াসমিন সুমী বলেন, উল্লাপাড়ায় এবারে ইরি ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে ইতিমধ্যেই দুএকটি এলাকায় ধান কৃষকেরা কাটছে সেখানে ধানে বাম্পার ফলন মিলছে তিনি আরো বলেন, উল্লাপাড়ায় ধান কাটা শ্রমিক সংকট হবে না এছাড়া অন্য এলাকার শ্রমিক উল্লাপাড়ায় আসতে এবং উল্লাপাড়া থেকে অন্য এলাকায় যেতে হলে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রত্যয়ন পত্র সহ কৃষি বিভাগের অনুমতি নিতে হবে এখন অবদি উল্লাপাড়ায় শ্রমিক আসা যাওয়ায় এমন অনুমতি নিতে কেউ বা দলবেধে কোন শ্রমিক আসেনি