একটি ঘর পাবেন কি কাজিপুরের সেই বৃদ্ধা আমিরন?

একটি ঘর পাবেন কি কাজিপুরের সেই বৃদ্ধা আমিরন?

কাজিপুর ডেস্কঃ



আশি বছর বয়সী বৃদ্ধা আমিরন। প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত স্বামীকে হারিয়েছেন ৩৫ বছর আগেই। এরপরই তিন মেয়ে আর এক ছেলেকে নিয়ে শুরু হয় তাঁর সংগ্রামী সংসার জীবন। প্রতিনিয়ত যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন এক মুঠো ভাতের জন্য। কত দিন যে না খেয়ে নিদ্রাহীন রাত কাটিয়েছেন তার ইয়ত্তা নেই। শেষ বয়সে এসেও তাঁর মনে নেই এক চিলতে শান্তি। সারা দিন অন্যের বাড়ি বাড়ি ঘুরে চেয়ে চিন্তে খাবার যোগান করেন তিনি। রাতের বেলায় বাড়ি ফিরে একটু সুখের ঘুম ঘুমাবেন তাও হয়ে ওঠে না। একটু বৃষ্টি পড়লেই যে তাঁর ঘরের চাল দিয়ে অঝরে পানি পড়ে। ভাঙা ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে কুকুর বিড়াল প্রবেশ করে। তারপরও স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে রাসিদা ও তার দুই সন্তান সহ মোট চার জনের ঠাঁই ওই ঝুপড়ি ঘরেই।

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার কুনকুনিয়া প্রামাণিক পাড়ার মৃত ফজর আলীর স্ত্রী এই আমিরন। প্রামাণিক পাড়ায় সড়কের পাশে একটি ঝুপড়ি ঘরেই বসবাস তাদের। শুক্রবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, আমিরনের ঝুপড়ি ঘরের টিনের ছাউনি নষ্ট হয়ে বড় বড় ফুটোর সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে পলিথিন দিয়ে বৃষ্টির পানি ঠেকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করেছেন তাঁরা। ঘরের বেড়ার ভাঙা স্থানে তেনা (নষ্ট কাপড়), ব্যানারের কাগজ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। কাপড়ের নিচেই রয়েছে বাঁশের কাবারি দিয়ে বানানো বেড়া। তাও পঁচে যাচ্ছে। ঘরের ভিতর রয়েছে মাত্র একটি ভাঙা চৌকি। তাতেই শুয়ে-বসে রাত্রি যাপন করেন তাঁরা। এসময় কথা হয় বৃদ্ধা আমিরনের সাথে।

এই প্রতিবেদককে সংগ্রামী জীবনের কথা বলার সময় কখন যে তাঁর চোখ দিয়ে পানি বেয়ে টপ টপ করে নিচে পড়ছে বুঝতেই পারননি। তিনি বলেন, আমি আর কয়দিন বাঁচমু বাবা? আমারতো বয়স শ্যাষ! এই বয়সে মাইনষের বাড়ি বাড়ি যাই। মানুষ আমাক্ মেলা কথা কয়। সারাদিন ঘুইরা যে চাউল পাই বাড়িত আইনা সবাই মিলা তা খাই। কতদিন না খায়া থাকা নাগে। রাইতে যে অ্যাল্লা আরামে ঘোম আসমু তাও হয় না। বেড়ার মধ্যে দিয়ে কুত্তা আইসে, বিলাই আইসে। বিষ্টি হলি ঘরের মধ্যে পানি পড়ে। সারা রাইত চহির উপর বইসা থাকি সবাই মিলা। তিনি আরও বলেন, হুনছি গরিব গোরে বলে সরকার ঘর দেয়। আমাক যদি একটো ঘর দিলানি আমি আরামে থাইকপার পাইরলামানি। স্থানীয়রা বলেন, ওই বৃদ্ধা অনেক দিন হলো এই ভাঙা ঘরেই বসবাস করেন। সারাদিন অন্যের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার সংগ্রহ করেন। রাতে এসে যে একটু আরামে ঘুমাবে তাও হয় না। তিনি ওই ঘরে মেয়ে, নাতি-নাতনিকে নিয়েই থাকেন। 

এ ব্যাপারে কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন, ওই বৃদ্ধার সংগ্রামী জীবনের কথা শুনে খুব কষ্ট পেয়েছি। বর্তমানে কোন ঘর বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ পেলেই তাদের সাথে যোগাযোগ করবো।