কাজীপুরের প্রতিবন্ধী সাইফুলের পরিবারও ঘুরে দাঁড়াতে চান

কাজীপুরের প্রতিবন্ধী সাইফুলের পরিবারও ঘুরে দাঁড়াতে চান

কাজিপুর ডেস্কঃ



বিয়ের পর শ্বশুর বাড়িতে পারি জমান সাইফুল ইসলাম। বগুড়ার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করা এই ব্যক্তি চাকরি নেন রাজধানীর সাভার ইপিজেটে। সেখানকার শান্তা ফ্যাক্টরির ডাইং পোস্টে কর্মরত ছিলেন। বেতনের টাকায় সংসার ভালই চলছিল। হঠাৎ ২০০৮ সালের অক্টোবরের ১৮ তারিখ তার জীবনে নেমে আসে কালোছায়া। কর্মস্থল থেকে মাইক্রোবাসে বসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। গাড়িটি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার পাইকুল্যাতে পৌঁছায়। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মালবাহী ট্রাক কেড়ে নেয় সকল স্বপ্ন-আশা। মরনের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া মারাত্মক আহত সাইফুলকে চিকিৎসার জন্য রাজধানীর এনাম মেডিকেল, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল ও তৎকালীন পঙ্গু হাসপাতালসহ প্রায় সব হাসপাতালেই ব্যর্থ চিকিৎসা করা হয়। সবশেষ পঙ্গু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে বগুড়ার শজিমেকে চিকিৎসার জন্য রেফাট করেন। এখানেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার দুই পায়ের হাঁটু পর্যন্ত কেটে ফেলা হয়। সে থেকেই তিনি প্রতিবন্ধী। সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার বেলতৈল উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত তফিজ উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে এই সাইফুল ইসলাম। চিকিৎসা করাতে সহায়সম্বল বিক্রি করে এখন নিঃস্ব জীবন যাপন করছেন। বাড়ি বাড়ি ঘুরে চাল, টাকা-পয়সা তুলেই চলছে তার সংসারের চাঁকা। তা দিয়েই স্ত্রী আর শিশু সন্তানকে নিয়েই কষ্টে দিনাতিপাত করছেন এই প্রতিবন্ধী পরিবার। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গাড়াবেড় গ্রামে কথা হয় প্রতিবন্ধী সাইফুলের সাথে। তিনি বলেন, আমার কোন বাড়ি ঘর বসত ভিটা কিছুই ছিল না। চিকিৎসা করাতে সব বিক্রি করা হয়েছে। সরকার আমাকে একটি ঘর দিয়েছেন। প্রতিবন্ধী কার্ডও করে দিয়েছেন। ছোট্ট একটি সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়েই আমার সংসার চলে। সারাদিন বাড়ি বাড়ি চাল উঠিয়ে কয়েকদিন তা খাই। শেষ হলে আবার বের হই। এই চাল উঠাতে বাড়ি বাড়ি যাওয়া আমার খুব কষ্ট হয়। হাটতে পারি না। হাঁটুর কাটা স্থানে প্রচণ্ড ব্যথা করে। একটি ভ্যানগাড়ি কেনার অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু হয়ে ওঠেনি। যে কয়টাকা জোগাড় করি চিকিৎসা আর খাওয়া-দাওয়াতেই শেষ হয়ে যায়। 

তিনি আরও জানান, কিছুদিন আগে একটা ভ্যানগাড়ি বানানোর জন্য হরিনাথপুরের এক মিস্ত্রিকে কিছু টাকা দিয়েছি। পুরাতন একটা ব্যাটারি দিয়ে গাড়ি বানিয়ে দেবে। অবশিষ্ট টাকাও দিতে পারছি না। আমার ভ্যানও হচ্ছে না।

সরেজমিন তার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, সংসারের সব আসবাব পত্র সরকারের দেয়া ওই ঘরে উঠিয়েছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না থাকায় ওই ঘরে থাকতে পারছেন না তারা। বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ওয়ারিং এর যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে মাস চারেক আগেই। ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় লণ্ঠন জ্বালিয়ে রাত্রি যাপন করতে হয়। হাত পাখা চালিয়ে অসহ্য গরমও সহ্য করতে হয় তাদের।

সাইফুলের স্ত্রী তোলা খাতুন জানান, অন্যের বাড়ি থেকে পানি এনে তাদের যাবতীয় কাজ করতে হয়। একটি টিউবওয়েলের বড়ই প্রয়োজন। তিনি শেলাইমেশিনে কাজ করে স্বামীর সংসারে হাল ধরতে চান। কিন্তু পাবেন কোথায়? কেনার মত সামর্থ্য যে তাদের নেই। তারাও সাবলম্ভী হতে চান। 

এ ব্যাপারে কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, বর্তমানে আমাদের কাছে টিউবওয়েল নেই। জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগাযোগ করলে হয়তো টিউবওয়েলের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। আর বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে বলে দিচ্ছি দ্রুত ব্যবস্থা হয়ে যাবে।