কাজীপুরে নিয়ম না মেনেই স্থাপিত হচ্ছে করাতকল

কাজীপুরে নিয়ম না মেনেই স্থাপিত হচ্ছে করাতকল
কাজীপুরে নিয়ম না মেনেই স্থাপিত হচ্ছে করাতকল

কাজিপুর ডেস্কঃ



সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই করাতকল স্থাপন করা হচ্ছে। যেখানে করাতকলটি স্থাপন করা হচ্ছে তার পশ্চিমে দুটি মসজিদ ও পূর্বে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। করাতকলটি স্থাপন বন্ধের জন্য সহযোগিতা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগও প্রেরণ করা হয়েছে। উপজেলার চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের গাড়াবেড় গ্রামে এই করাতকলটি স্থাপিত হচ্ছে।

সরেজমিন ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি গাড়াবেড় পশ্চিম পাড়ার জয়নাল আবেদীনের বসতভিটা পাঁচ বছরের জন্য লিজ নেন মাইজবাড়ি ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদ। তিনি ওই জায়গায় করাতকল স্থাপন করবেন শর্তে মাটি ভরাট শুরু করেন। করাতকলের ভিতও নির্মাণ করেন ইট-সিমেন্ট দিয়ে। বিষয়টি নজরে আসলে গাড়াবেড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গ্রামবাসির পক্ষে পৃথক দুটি অভিযোগ প্রেরণ করা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা অফিস বরাবর। সেখানে উল্লেখ করা হয়, করাতকলটির পশ্চিমে দেড়শ মিটারের মধ্যে দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ অবস্থিত। তার পূর্বেও দেড়শ মিটারের মধ্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। করাতকল স্থাপনে পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের নীতিমালার ৭ এর (খ) এ উল্লেখ রয়েছে, কোন সরকারি অফিস আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিনোদন পার্ক, উদ্যান ও জনস্বাস্থ্য এলাকা হতে ন্যূনতম ২০০ মিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন করা যাবে না। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, একেবারে গ্রামের মধ্যে করাতকলটি স্থাপন করা হচ্ছে। এখানে স্থাপন করলে পাশের মসজিদে ইবাদত ও বিদ্যালয়ে কচিকাঁচা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মনোযোগ মারাত্মকভাবে বিঘ্ন ঘটবে। শব্দ ও পরিবেশ দূষিত হবে ভয়ানকভাবে। রাস্তায় গাছের গুল রাখবে। তখন আবার সড়ক দুর্ঘটনার হার বেড়ে যাবে।

এ ব্যাপারে করাতকলটির মালিক আব্দুল মজিদ বলেন, সরকারি আইন অমান্য করে স'মিল করবো না। অফিস থেকে আমাকে কল দিয়েছিল।

কাজীপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা আবু রায়হান আজকের পত্রিকাকে বলেন, অভিযোগ পেয়ে মালিকদের সাথে কথা বলেছি। তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে। যদি না মানে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে বন বিভাগ থেকে মামলা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, অভিযোগ পেয়েছি। বন কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আইনের ব্যত্যয় ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।