কামারখন্দে সেচ চার্জ নির্ধারণ করলো কমিটি, কৃষকের লাভবান হওয়ার প্রত্যাশা

কামারখন্দে সেচ চার্জ নির্ধারণ করলো কমিটি, কৃষকের লাভবান হওয়ার প্রত্যাশা

কামারখন্দ ডেস্কঃ



সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় সেচ কমিটির মাধ্যমে বোরো ও আমন ধানের মৌসুমের সেচ চার্জ নিধারণ করা হয়েছে।

তবে সেচ চার্জ নির্ধারণ নিয়ে সন্তুষ্ট নয় সেচ মালিকেরা, এদিকে সেচ চার্জ  নির্ধারণ নিয়ে চিন্তিত রয়েছে ইঞ্জিন (শ্যালো) মেশিন চালিত কৃষকেরা।

উপজেলা সেচ কমিটির সূত্রে জানা যায়, কৃষির উৎপাদন ধারা অব্যাহত রাখা এবং উৎপাদন খরচ হ্রাসের লক্ষ্যে উপজেলা সেচ কমিটি প্রতি বোরো মৌসুমে ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং আমন মৌসুমে ১ হাজার ৬০০ টাকা সেচ নির্ধারণ করেছেন। কোন সেচ মালিক যদি নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করেন অথবা টাকার পরিবর্তে জোড় করে ধান আদায় করলে সেই সেচ মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে যেসব লাইসেন্সবিহীন সেচ পাম্প রয়েছে তাদেরকে লাইসেন্স প্রাপ্তির  জন্য ১৪ অক্টোবর থেকে ১৪ নভেম্বর মধ্যে আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারণ সময়ের পর অবৈধ লাইসেন্সবিহীন সেচ মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা যায়।

সেচ চার্জ বিষয় নিয়ে সেচ পাম্পের মালিক ইউসুফ আলী, মানিক হোসেনসহ কয়েকজন বলেন, বোরো ও আমন মৌসুমে উপজেলা সেচ কমিটি যে টাকা নির্ধারণ করেছেন এ টাকা কৃষকের কাছে থেকে নিলে আমাদের বাড়ি-ঘর বিক্রি করে সেচ চালাতে হবে।

তারা জানায়, বিদ্যুৎ বিল বেশি, পাম্প নষ্ট বা পুড়ে গেলে সেখানে বড় অংকের টাকা দিয়ে ঠিক করতে হয়। এছাড়া আরো আনুসঙ্গিক খরচ রয়েছে। অর্থাৎ প্রতি বিঘায় যদি তাদের ৪-৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় তাহলে লাভ হবে না, আর কৃষকেরা প্রতি মৌসুমে ঠিক মতো টাকা পরিশোধ করবে না বলেও তাদের ধারণা। এজন্য তারা  টাকা না নিয়ে ধান নিবেন তা না হলে সেচ পাম্প বন্ধ করে দিবেন বলেও জানায়। 

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইঞ্জিন চালিত (শ্যালো)  মেশিন এর কৃষকেরাভ জানায়, আমরা অনেক কৃষক রয়েছি যারা নিজের জমিতে  বোরো এবং আমন ধানের মৌসুমে জমিতে পানি দিয়ে থাকি। আমাদের অনেকের সার্মথ্য নেই সেচ পাম্প চালানোর। তারা ইঞ্জিন চালিত (শ্যালো) চালিয়ে সংসার ও ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালায়। এটা বন্ধ করে দেওয়া হলে আমাদের মতো অনেক গরীব কৃষক বিপদে পড়বেন ।

আব্দুর গফুর,আদেল সরকারসহ কয়েকজন কৃষক জানায়, সেচ চার্জ নির্ধারণ বাস্তবায়ন হলে আমাদের মতো অনেক কৃষক লাভবান হবে।

কৃষক গোলাম কিবরিয়া জানায়, সরকার প্র‍তি বছর কৃষকদের যে ভর্তুকি দিচ্ছে এই ভর্তুকির সুবিধা পায় সেচ মালিকেরা। সেচ চার্জ নির্ধারণ বাস্তবায়ন হলে কৃষকেরা অনেক লাভবান হবেন।  

কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেরিনা সুলতানা (সেচ কমিটির সভাপতি) বলেন, উপজেলা সেচ কমিটির মাধ্যমেই  সেচ চার্জ নির্ধারণ হয়েছে। প্রতি বিঘায় সেচ মালিকদের ধানের পরিবর্তে টাকা নিতে হবে কোন সেচ মালিক যদি টাকা নিতে অস্বীকার করে বা জোড় করে কৃষকের কাছে থেকে ধান আদায় করে অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।