করোনায় থেমে নেই কৃষকের হাসি ফোঁটানোর প্রয়াস

করোনায় থেমে নেই কৃষকের হাসি ফোঁটানোর প্রয়াস

আব্দুল্লাহ আল মারুফ:


দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে থমকে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তবে এই পরিস্থিতিতেও থেমে নেই কৃষক। কৃষকরা অনিরাপদ পরিস্থিতিতেও মাঠে চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের জন্য নেই কোনও বিশেষ সরকারি প্রণোদনা। বর্তমানে বোরো আবাদের মৌসুম চলছে। কৃষকেরা তাদের জমিতে আগের মতোই কাজ করে যাচ্ছে। শহরে যেভাবে জনসাধারণ করোনা সম্পর্কে সচেতন, গ্রামের লোকজন আসলে তেমন সচেতন নয়। বিশেষ করে যারা কৃষক তারা আগের মতোই মাঠে যাচ্ছেন, কাজ করছেন, আবার বাড়ি ফিরে দৈনন্দিন কাজ করছেন।

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বাড়াকান্দি, আলোকদিয়ার, রসুলপুর, পাইকোশাসহ কয়েকটি এলাকায় সরেজমিনে  গিয়ে দেখা যায় মাঠে পাকা ধান কাটাসহ আনুষঙ্গিক কাজ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক- কৃষাণীরা।

আব্দুল হাকিম, সোনাউল্লাহ, আইয়ুব হোসেন, বাকি, লুৎফর রহমান সহ কয়েকজন কৃষক জানান, বোরো ধান কাটা প্রায় শেষের দিকে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৩-৪ দিনের ভিতরে ধান কাটা, মাড়াইসহ আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হবে ও ধান  ঘরে উঠবে। 

এই সময় করোনার ভয়ে ঘরে বসে থাকলে কী করে চলবে? ধান ঘরে উঠাতে না পারলে সারাবছর কীভাবে ছেলেমেয়েদের নিয়ে সংসার চলবে- বললেন কৃষকেরা।

কৃষকেরা জানান, আমাদের দেশে বেশির ভাগ মানুষই কৃষি কাজের সাথে জড়িত ও অনেকটাই  কৃষি উপর নির্ভরশীল কিন্তু আমরাই সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত। না পাই সরকারি সেরকম কোন সুযোগ সুবিধা, না পাই ধান বা ফসলের ন্যায্য মূল্য। আমরা মরলেই কি আর বাঁচলেই কি? আমাদের মতো গরীব  কৃষকদের দেখার কেউ আছে নাকি? যদি কৃষক বাঁচে তাহলে দেশ বাঁচবে। এজন্য আমাদের সরকারি সাহায্য সহযোগিতা খুব প্রয়োজন। 

এদিকে এলাকার সচেতন নাগরিক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষিখাত হলেও কৃষক বার বার অবহেলিত। করোনা, আম্পানে কৃষক অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাদের জন্য নেই কোন প্রণোদনা বা ভর্তুকির ব্যবস্থা। এটা অনেক দুঃখজনক।

এ বিষয়ে কামারখন্দ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল বায়েজ জানান, করোনার জন্য ৪১০ জন কৃষকদের বিনামূল্যে সবজির বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১০জন কৃষককে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নিজস্ব অর্থ থেকে দিয়েছেন। সবজি পুষ্টি বাগান স্থাপন নামে  বিশেষ আরেকটা প্রণোদনা দেওয়া হবে। সেখানে প্রতি ইউনিয়নে ৩২ জন সহ মোট ১২৮ জন কৃষকদের সার, বীজ,পরিচর্যাসহ নগদ ১,৯৩৫ টাকা দেওয়া হবে।  তিনি আর ও জানান, সরকার তো সবাইকে প্রণোদনা দিবে না। যারা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদেরকে দেন। এছাড়া যারা মাঝারি ও বড়লোক কৃষক রয়েছেন তাদের জন্য সরকার ৪% সুদে  ব্যাংক ঋণ দিচ্ছেন।

কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত জানান, করোনার জন্য প্রণোদনাসহ কৃষকদেরকে নিজস্ব অর্থ দিয়ে  নানাভাবে সাহায্য  সহযোগিতা করা হচ্ছে।  সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে তাদেরকে কৃষি কাজ করতে  বলা হচ্ছে।