গোপনে তালাক, শ্বশুরের হাতে মারধরের শিকার ছেলের বউ!

গোপনে তালাক, শ্বশুরের হাতে মারধরের শিকার ছেলের বউ!

দীর্ঘ ছয় বছর সংসারের পর গোপনে তালাক দিয়ে ছেলের বউকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এমন অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার এক শ্বশুর -শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পরানপুর উত্তর পাড়া গ্রামে। 

সোমবার সকালে সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছয় বছর আগে উপজেলার হরিনাথপুর গ্রামের তুজাম হোসেনের মেয়ে শিল্পী খাতুনকে বিয়ে করেন একই উপজেলার পরানপুর উত্তর পাড়া গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে আবুল কালাম আজাদ। বিয়ের পর সংসার ভালোই চলছিল তাদের। এরপর শ্বশুর - শ্বাশুড়ি শিল্পীকে নানাভাবে নির্যাতন শুরু করেন। অনেক দিন না খেয়েও রেখেছেন ওই দম্পতিকে। এক পর্যায়ে গত এক বছর আগে ওই দম্পতিকে পরিবার থেকে আলাদা করে দেয়া হয়। কিন্তু তাতেও ওই শ্বশুর - শ্বাশুড়ি ক্ষ্যান্ত হননি। নানা সময়ে ছেলে বউকে গালিগালাজ ও মারধর করতেন। সবশেষ গত শনিবার বেলা এগারোটার দিকে শ্বশুর - শ্বাশুড়ি, ভাসুর নারায়নপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জোর করে ঘর থেকে টেনে হেচড়ে বের করেন শিল্পীকে। পরে তাকে মারধর ও টেনে হেচড়ে পরনের কাপড় চোপড় ছিড়ে ফেলে তারা। 

ভুক্তভোগী শিল্পী খাতুন বলেন, আমার শ্বশুর আমাকে সবসময় গালিগালাজ করতো। যেগুলো মুখে বলা সম্ভব না। না খেয়ে রাখতো। মারধরও করতো। আমি সংসার করবো বলে সব সহ্য করেছি। কিন্তু শনিবার সকালে আমাকে ঘর থেকে টেনে বের করে মারধর করেছে। পরনের কাপড় চোপড় ছিড়ে দিছে। গালিগালাজ করে বলেছে 'ওই শালী তুই তোর বাপের বাড়িত চলে যা। তোক তালাক দেয়া হইছে। তুই আর এই বাড়িত থাইকপার পারবু না। না গেলে তোর.... (লেখার মত না) ফেটে ফেলবো।" 
শিল্পী আরও বলেন, আমার শ্বশুর, ননদে জামাই রফিকুল, ভাসুর রফিকুল ইসলাম মেম্বর আমার স্বামীকে জোর করে সিরাজগঞ্জ নিয়ে গেছে কিছু দিন আগে। সবশেষে গত ২৬ আগস্ট আমার স্বামী আমার সাথে কথা বলেছিল। সেদিন খুব কান্না কাটি করেছে মোবাইলে কথা বলার সময়। শুধু বলেছে 'তুমি কোন চিন্তা করো না, ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করো।' শিল্পী বলেন, আমার স্বামীকে সিরাজগঞ্জ নিয়ে বাসায় আটকে রেখেছে। তাছাড়া ও আমার কাছে আসতোই।

অভিযুক্ত শ্বশুর আব্দুল খালেককে বাড়ি না পেয়ে মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ভাসুর রফিকুল ইসলাম মেম্বর বলেন, "ওই মাগিতো খারাপ, ওকে ছেড়ে দিবে নাতো কি করবে।"

কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল কুমার দত্ত জানান, এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।