দীর্ঘ দেড় বছর পর খুললো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: উচ্ছ্বসিত সিরাজগঞ্জের শিক্ষার্থীরা

দীর্ঘ দেড় বছর পর খুললো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: উচ্ছ্বসিত সিরাজগঞ্জের শিক্ষার্থীরা

৫৪৩ দিন পর শ্রেণিকক্ষের দ্বার খুলেছে আজ।  শিক্ষার্থীরা ফিরেছে নিজ ভুবনে।  করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সবধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।  সংক্রমণ কিছুটা কমে আসায় প্রথম ধাপে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে গেছে আজ থেকে। 

শারীরিক উপস্থিতিতে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আগে থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করার নির্দেশনা ছিল। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। শ্রেণি কার্যক্রম প্রস্তুতি ছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বরণ করতে সাজানো হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শ্রেণিকক্ষ।

রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের আগমন উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাজসাজ রব বিরাজ করছে। বিশেষ করে দুই শিফটের স্কুলগুলোতে সকাল ৮টার আগেই শিক্ষার্থীরা নতুন স্কুল ড্রেস পরে অভিভাবকের হাত ধরে উপস্থিত হতে দেখা গেছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুটি শ্রেণির পাঠদান অনুষ্ঠিত হবে। সে অনুযায়ী একটি রুটিনও প্রণয়ন করা হয়েছে।  রুটিন অনুযায়ী, আজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির সঙ্গে তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিষয়টি না জেনে অনেক অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও স্কুলে চলে আসতে দেখা গেছে।

এদিকে দীর্ঘদিন পর ক্লাসে বসার আনন্দে মাতোয়ারা ছাত্রছাত্রীরা। এক সপ্তাহ ধরে তারা স্কুলব্যাগ, ড্রেস, জুতা ইত্যাদি কিনে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। তাদের স্বাগত জানাতে বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও প্রস্তুত।

বিশেষ করে শহরাঞ্চলের স্কুল-কলেজ অনেকটাই নতুন রূপে সাজানো হয়েছে। এছাড়া বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তবু অভিভাবকরা কিছুটা অস্বস্তি আর উদ্বেগে আছেন।

সার্বিক বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ টি.এম সোহেল সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসকে জানান, প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ আছে সরাসরি পাঠদান। এতে শিক্ষার অপরিমেয় ক্ষতি হচ্ছিল।

তাই ক্ষতি আর না বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন মহলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছে সরকার। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরায় ক্লাস শুরু উপলক্ষ্যে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ সার্বিক পদক্ষেপ নিয়েছে। মহামারি পরিস্থিতির বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পর সশরীরে শ্রেণী কক্ষে বসে ক্লাস করতে পেরে অনেক উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা।