ধার নেয়া ৫০০ টাকা ফেরত না দিতেই এতকিছু !!

ধার নেয়া ৫০০ টাকা ফেরত না দিতেই এতকিছু !!

এক্সপ্রেস ডেস্কঃ



বন্ধুর কাছ থেকে ৫০০ টাকা ঋণ নিয়ে তা ফেরত না দেওয়ার জন্য অভিনব নাটক সাজান মোস্তাফিজুর রহমান নামে এক যুবক। ২২ মে রহমান তার বন্ধু আরাফাত জামানকে ফোন করে জরুরি ৫০০ টাকা দরকার বলে জানান। এরপর দ্রুত তার মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে ওই টাকা পাঠিয়ে দেন জামান। দুই বন্ধু ২৮/১ পূর্ব রাজাবাজারে একটি মেসে বসবাস করছেন। মঙ্গলবার অভিনব প্রতারণার ঘটনায় রহমানকে গ্রেপ্তার করে হাতিরঝিল থানা পুলিশ। এরপর বেরিয়ে আসে প্রকৃত ঘটনা।

মামলার এজাহার ও পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ২২ মে রাতে রাজাবাজারের বাসায় ফিরে গল্প ফাঁদেন রহমান। তিনি দাবি করেন- বাড্ডার অফিস থেকে হাতিরঝিল হয়ে বাসায় ফেরার পথে ঝামেলায় পড়েন তিনি। হাতিরঝিলে মহানগর ব্রিজ এলাকায় ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় পুলিশ তাকে ধরেছিল। তার কাছে কিছু পাওয়া না গেলেও পকেটে গাঁজার পোটলা ঢুকিয়ে দেয় পুলিশ। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করে। নগদ ৫০০ টাকা পুলিশকে দেন রহমান। তবে তারা আরও ৫০০ টাকা চায়। পরে পুলিশ সরবরাহ করা একটি মোবাইল ব্যাকিং নম্বরে আরও ৫০০ টাকা দেওয়ার চাপ দেন। এরপর বাধ্য হয়ে জামানকে টাকার জন্য ফোন করেন তিনি। বন্ধুর কাছ থেকে টাকা নিয়ে পুলিশের মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে পাঠিয়ে দেন তিনি। এই কাহিনী শুনে বন্ধুর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন জামান।

জানা গেছে, ঘটনার রাতে জামান ঘুমিয়ে পড়লে নতুন নাটক তৈরি করেন রহমান। জামানের মোবাইল নিয়ে তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে লিখেন-'পুলিশ কী কখনোই ভালো হবে না।' পরদিন সকালে ঘুম ভাঙার পর জামান দেখেন তার ফেসবুকের ওই পোস্টে অনেকেই নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ ফোন করে তার কাছে প্রকৃত ঘটনা জানতে চান। তখন জামান তার পরিচিত জনদের বলেন- এই ঘটনার শিকার তিনি নন। তার বন্ধু পুলিশের মাধ্যমে হয়রানির শিকার। এরপর ওই পোস্টের স্ক্রিনশট রেখে দিয়ে সেটি ডিলিট করে দেন জামান। এরপর ২৩ মে রহমান তার ফেসবুক আইডি থেকে জামানের আইডিতে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে তা ভাইরাল করার জন্য বলে। কিভাবে পুলিশের মাধ্যমে তিনি হাতিরঝিলে কথিত হেনস্তার শিকার হন এমন একটি ভয়েস মেসেজে রহমান তা তুলে ধরেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই পোস্ট দেখার পর অনেকে পুলিশকে জানান। অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নেওয়ার তাগাদা দেন। এরপর পুলিশ প্রথমে জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তার পরামর্শে তার বন্ধুর সঙ্গে কথা বলেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশের সরবরাহ করা কোন নম্বরে ৫০০ টাকা পাঠানোর হয়েছিল সেটি সরবাহ করেন তিনি। পরে ওই মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পর্যায়ে কথা বলে নম্বরটি কার নামে সেটি জানতে চায় পুলিশ। তখন বেরিয়ে আসে- যে নম্বরটিতে টাকা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে সেটি প্রকৃত কোনো মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর নয়। এমনকি ওই নম্বরে কয়েক মাসে কোনো অর্থ লেনদেনের তথ্যও নেই। উল্টো পটুয়াখালীতে নারীর মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে ১ হাজার টাকা পাঠান রহমান। এরপরও তার অভিনব প্রতারণার বিষয়টি খোলাসা হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তেজগাঁও বিভাগের ডিসি মো. শহীদুল্লাহ বলেন, বন্ধুর ৫০০ টাকা পরিশোধ না করার জন্য ওই যুবক যে গল্প তৈরি করেছে তা কল্পনাকেও হার মানায়। সে যে ধরনের গল্প সাজিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটা প্রচার করলে প্রথমে অনেকে তার বিশ্বাস করবে। তার আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল এটি ভাইরাল হলে অনেকে তার সাক্ষাৎকার নিতে আগ্রহ দেখাবে। এই ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাক্ষী হিসেবে তার বন্ধু জবানবন্দি দিয়েছে।

তেজগাঁ বিভাগের এডিসি হাফিজ আল ফারুক বলেন, পটুয়াখালীতে এক বান্ধবীকে টাকা পাঠাতেই এতো নাটক সাজান ওই যুবক। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের হিসাব পরীক্ষা করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।