প্রথমবারের মতো গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার আয়োজক হচ্ছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়

প্রথমবারের মতো গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার আয়োজক হচ্ছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০ জুলাই প্রথমবারের মতো এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জিএসটি (GST) গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ভর্তি পরীক্ষার সাথে একযোগে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’ কর্তৃপক্ষ। ইতমধ্যে ভর্তিচ্ছু বিপুল পরিমাণ পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের আগমন উপলক্ষে  শাহজাদপুরে উৎসবের আমেজ পরিলক্ষিত হচ্ছে। 

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের লেকচার থিয়েটারে GST গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ভর্তি পরীক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শাহ্ আজম।

ররি’র ভিসি প্রফেসর ড. শাহ্ আজম সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে বলেন, উন্নত বিশ্বের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সাথে সঙ্গতি রেখে, জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষা-গবেষণা’র সাথে সাথে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি চির অম্লান রাখার প্রয়াসে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১৬ সালে জাতীয় সংসদে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হবার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। সে মোতাবেক ২৬ জুলাই ২০২২ সালে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ৬ষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ করে। এ উপলক্ষে আমরা একটি আনন্দ অনুষ্ঠান করেছি। সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ভিসি আরও বলেন, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় যথাযথ গুরুত্বের সাথে আপনারা সে সংবাদ পরিবেশন করেছেন। আপনারা জানেন বাংলাদেশের যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা রয়েছে। তন্মদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষাটি অত্যন্ত উৎসাহের ও গুরুত্ব বিবেচনায় এটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সবার কাছে।

ররি’র ভিসি প্রফেসর ড. শাহ্ আজম সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, গতবছর থেকে বাংলাদেশে একটি নতুন রীতি চালু হয়েছে। ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় একত্রে গুচ্ছভিত্তিক সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বয়ে গুচ্ছভিত্তিক সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করে আসছে। গত বছরও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এই ২০ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলো এবং আমাদের শিক্ষর্থীরা এই পরীক্ষার মাধ্যমেই ভর্তি হয়েছে। এবছরও গুচ্ছভিত্তিক সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে আগামী ৩০ জুলাই বিজ্ঞান বিভাগ, ১৩ আগস্ট মানবিক বিভাগ ও ২০ আগস্ট বাণিজ্য বিভাগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এবারের  GST গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আরো দুটি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হয়ে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। এবার প্রথম বারের মতো রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা, সেই ভর্তি পরীক্ষার আয়োজক হিসেবে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা করবে শাহজাদপুরে। বিষয়টি শাহজাদপুরের জন্যে নতুন ঘটনা, কারণ এরকম পাবলিক পরীক্ষা শাহজাদপুরে এর আগে কখনো হয়নি। যার ফলে এটি আমাদের জন্য যেমন অত্যন্ত আনন্দের, তেমনি শাহজাদপুরবাসীর জন্যেও গর্বের। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমরা এজন্যে গুচ্ছভিত্তিক সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্যদেরকে ধন্যবাদ জানাই যে, তারা আমাদের উপর নির্ভর করে এখানে একটি কেন্দ্র পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছেন। এ আনন্দের সাথে আমাদের কিছু সংকটেরও সৃষ্টি হয়েছে। আমরা কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। যেমন, আমাদের এখানে সর্বমোট ৫ হাজার ৮’শ ১৪ জন ভর্তি পরীক্ষা দেবার জন্য এ কেন্দ্র পছন্দ করেছে। এ ইউনিটের (বিজ্ঞান) পরীক্ষায় আমাদের এখানে ৩ হাজার ৩’শ ২২ জন পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে। একসাথে ৩ হাজার ৩’শ ২২ জন পরীক্ষার্থী এবং তাদের সাথে তাদের অভিভাবকেরা শাহজাদপুরে আগমন করছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার মানুষ নতুন করে পরীক্ষার দিন একসাথে শাহজাদপুরে সমাগত হবেন। এর ফলে এই ছোট্ট শহরের যানবাহন চলাচল এবং শহরের যে দৈনন্দিন পরিচালনার সংস্কৃতি, আমাদের ধারণা এর উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে ট্রাফিক ব্যবস্থার উপর। যার ফলে এখানে একটা বড় রকমের যানযট দেখা দেয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এটাকে মুক্ত করতে না পারলে শহরের জন্যে সংকট সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা এখানে এসে নির্বিঘ্নে যেন চলাচল করতে পারে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। পরীক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকেরা অনেকেই পরীক্ষার আগের দিন শাহজাদপুরে আসবেন এতে তাদের আবাসন সংকট সৃষ্টি হবে। এই দুটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্যে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, পৌরসভার মেয়র, পরীক্ষার হল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা সকলেই সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন। এখানে আগত পরীক্ষার্থীদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা, বসার ব্যবস্থা করা ও বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন পৌর কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের জন্য গেস্ট হাউজের ব্যবস্থা করবেন এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ যেন তাদের ভাড়া বৃদ্ধি না করে উপজেলা প্রশাসন সে নির্দেশনা দেবে ও তদারকি করবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে পুলিশ কাজ করবে। পৌরসভার মেয়র শাহজাদপুরের কাপড়ের হাটের আড়ৎ এ পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের থাকার ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। এছাড়াও শাহজাদপুরবাসীর পক্ষ থেকে অনেক পরিবার আবাসন ব্যবস্থা করার জন্য এগিয়ে এসেছেন, এভাবেই আমরা এ সংকট মোকাবেলা করতে পারবো।

পরীক্ষার্থীরা শুধু রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে আসবেন না তারা শাহজাদপুরে এসে একটি নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে যাবেন। পরীক্ষার্থীরা শাহজাদপুরে এসে যদি মনোরম পরিবেশ ও ভালো আতিথিয়তা পায় তাহলে সেটি  রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহজাদপুরের জন্য আনন্দ ও গৌরবের হবে। শাহজাদপুর নতুন করে দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করবে। আমি আপনাদের মাধ্যমে শাহজাদপুরবাসী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করা সমাজকর্মী, রাজনৈতিককর্মীসহ সবার উদ্দেশ্যে বলছি, ৩০ জুলাই ভর্তি পরীক্ষাটি শাহজাদপুরের একটি অহংকার এবং যারা বাইরে থেকে আসবেন তাদেরকে আপনারা আপনাদের অতিথি মনে করে আপনাদের যতটুকু সম্ভব তাদের সার্বিক সহযোগিতা করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে আপনারা আপনাদের সম্পদ মনে করবেন এবং মনে করবেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রয়োজনে যদি আপনারা পাশে থাকেন তাহলে সারাজীবন ধরে শাহজাদপুরকে মানুষ মনে রাখবে। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরিক্ষা শুরু হবে ৩০ জুলাই বেলা ১২ টায় এবং শেষ হবে দুপুর ১ টায় । বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন হিসেবে ৩ টি কলেজ আমরা ব্যবহার করছি। কিন্তু আমরা ভর্তি পরীক্ষায় নিরাপত্তা এবং পরীক্ষার্থীদের সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দতা বিবেচনা করে আমরা আমাদের ক্যাম্পাসের পরীক্ষাগুলো শাহজাদপুর ইব্রাহিম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি ও শাহজাদপুর সরকারি কলেজকে অপর একটি পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছি। এতে কেন্দ্রগুলো যথেষ্ট নিরাপদ থাকবে। ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে গ্রহণের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্নের কাজ আমরা করে যাচ্ছি। আমরা চাই যে ৩০ তারিখের পরীক্ষাটি হোক অত্যন্ত আনন্দের যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে চির অম্লান আমাদের স্মৃতিতে।

উল্লেখ্য, ৩০ জুলাই শনিবার বেলা ১২ টায় একযোগে গুচ্ছভুক্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-ঢাকা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-কুষ্ঠিয়া, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-সিলেট, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়-খুলনা, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়- দিনাজপুর, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় -টাঙ্গাইল, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়- পটুয়াখালী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়- নোয়াখালী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়- কুমিল্লা, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়- ত্রিশাল, ময়মনসিংহ; যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়- যশোর, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় -রংপুর, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়- পাবনা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়- গোপালগঞ্জ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়- বরিশাল, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়- রাঙ্গামাটি, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ- সিরাজগঞ্জ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ- গাজীপুর, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়- নেত্রকোনা, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়- জামালপুর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়- কিশোরগঞ্জ এবং চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় -চাঁদপুর এ ২২ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।