বৈদেশিক মুদ্রা আত্নসাত ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে গ্রেপ্তার সিরাজগঞ্জের জিয়া ও সাজিদ!

বৈদেশিক মুদ্রা আত্নসাত ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে গ্রেপ্তার সিরাজগঞ্জের জিয়া ও সাজিদ!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ



বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আত্মসাৎ ও অবৈধভাবে লেনদেনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্সিয়াল স্ক্যামার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) সিরাজগঞ্জের মুজিব সড়ক এলাকায় সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের এক বিশেষ অভিযানে মো. জিয়াউল হক ও মো. সাজিদ হাসান সেতু নামে দুইজনকে গ্রেফতার করেছেন।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেসন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন জানায়, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে একটি বিদেশি বিনিয়োগ পরামর্শক প্রতিষ্ঠানে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মূদ্রা আত্মসাৎ ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

নতুন ধরনের প্রতারণার এই প্রক্রিয়াটির নাম ‘নিউ অ্যাকাউন্ট ফ্রড’ (New Account Fraud)।

গ্রেফতাকৃতরা প্রতারণার মাধ্যমে হাজার হাজার মার্কিন ডলার আত্মসাৎ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন বলেও তিনি জানান।

সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ সূত্র জানা যায়, আর্থিক প্রতারণার শিকার বিনিয়োগ পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটিতে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যক্তিগত তথ্য প্রদানের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রদান করতে হয়। প্রতিষ্ঠানটি অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশনের অংশ হিসেবে প্রতিটি নতুন রেজিস্ট্রেশন করা অ্যাকাউন্টের বিপরীতে অনধিক ১ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সাময়িকভাবে প্রদান করে থাকে।

ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এই অর্থ ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই ওই প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে রিটার্ন করে।
গ্রেফতারকৃতরা আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির এই অ্যাকাউন্ট অথেন্টিকেশন প্রক্রিয়ার সুযোগ নিতো। তারা প্রথমে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশি-বিদেশি প্রতারক চক্রের কাছ থেকে Perfect Money, Web Money, Payoneer অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ভুয়া নাম ঠিকানা সংবলিত Social Security Number ও বিদেশি ব্যাংকের বেনামে তৈরি করা অ্যাকাউন্ট ক্রয় করতেন।

অনলাইন থেকে ক্রয় করা এই তথ্যগুলো কাজে লাগিয়ে তারা প্রতিটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ওই বিনিয়োগ পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটির ৩০০-৪০০টি ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করতেম। এভাবে অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশনের জন্য অর্থ একসঙ্গে নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হলে চক্রটি ওই অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ফেরত যাওয়ার আগেই অন্য একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ সরিয়ে নিতেন।

এ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য তারা  GO2Bank, Chime Bank আন্তর্জাতিক মোবাইল ব্যাংকিং প্লাটফর্ম ব্যবহার করতেন। 

এ প্রতারক চক্রটি এ পর্যন্ত অসংখ্য ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে হাজার হাজার মার্কিন ডলার প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন বলেও সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ সূত্র জানায়।