র‍্যাগ'ডে এর মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে অপসংস্কৃতি"

র‍্যাগ'ডে এর মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে অপসংস্কৃতি

আশিক আহমেদঃ



Rag day অর্থ শিক্ষা জীবনের শেষ দিন। আরো অন্য অর্থে বলা হয়, ছেলেমেয়েদের সাপ্তাহিক হৈহুল্লোরের দিন এটি। কিন্তু আমার কাছে যেটি মনে হয়েছে - র‌্যাগ ডে আর স্কুল কলেজের শেষ দিন এক নয়। স্কুল কলেজের শেষ দিন হলো সমাপনী। আর র‌্যাগ ডে হলো ইন্টারনেট ঘেঁটে যতদূর জানা যায়, এটি সম্ভবত গ্রীক কালচার।

সপ্তম-অষ্টম শতকে খেলার মাঠে টিম স্পিরিট নিয়ে আসার জন্য র‌্যাগিংয়ের প্রচলন শুরু হয়। র‌্যাগ শব্দটি মূলত ইংরেজি র‌্যাগিং থেকেই এসেছে। আর ইউরোপে প্রচলন ঘটে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি। ১৮২৮-১৮৪৫ সালের দিকে র‌্যাগ সপ্তাহের প্রচলন ঘটে আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। বিশেষ করে ছাত্র সংস্থা- পাই, আলফা, বিটা, কাপ্পা এই সপ্তাহটির প্রচলন ঘটাতে বড় ভূমিকা নিয়েছিল। তবে আরো মজার ব্যাপার, ইউরোপ-আমেরিকায় এর যাত্রা হলেও বর্তমানে আমাদের এশিয়াতেই এর ব্যবহার সর্বাধিক।

আজ থেকে তিন দশক আগেও উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে র‌্যাগিং নামের নেতিবাচক শব্দটির সঙ্গে অধিকাংশের পরিচয় ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচিত ছিল র‌্যাগ-ডে নামের শব্দটি। স্নাতকোত্তর পড়া শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার আগে ছাত্রছাত্রীরা একটি বিদায়ী আনন্দ-উৎসবের আয়োজন করত। বেশ কিছুদিন আগেই র‌্যাগ-ডে’কে অমানবিক, নিষ্ঠুর ও নীতিবহির্ভূত উৎসব আখ্যা দিয়ে তা নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাদেশের প্রায় সব পাবলিক ও বেশির ভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং ও র‍্যাগ ডে পালনের চল ছিল এবং এখনো আছে। আমরা যখন স্কুলে পড়তাম তখন মনে করতাম এই উৎসব শুধু পাবলিক এবং প্রায়ভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই। কিন্তু আধুনিক সমাজ আমাদের নৈতিক অবক্ষয়তার এতটাই নিম্নস্তরে নামিয়েছে যে, র‍্যাগ ডে কালচার এখন মাধ্যমিক স্কুলেও পালিত হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের কচিকাঁচা শিক্ষার্থী গুলো যে অর্থে র‍্যাগ ডে পালন করছে তা কোন সুশীল সমাজের কাম্য না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এর চেয়ে পবিত্র আর কি হতে পারে, সেই পবিত্র স্থানে বিকট আওয়াজে এলোমেলো গান, গায়ের জামায় নোংরা লেখালিখি, অসভ্য কথা বার্তা আর অনেকটা যৌন হয়রানি করেই পালন করছে বর্তমানের র‍্যাগ'ডে।

এ বছর বিদায় অনুষ্ঠানের নামে র‍্যাগ'ডে পালন হলো, এই কালচার বেশীদিন ধারন করলে বিদায় অনুষ্ঠানের যে অতীত ছিল তা আমরা হাড়িয়ে বসবো। আমাদের সময়ই যদি বলি, এইতো ২০০৬ সালের কথা, এসএসসি ব্যাচ কে স্কুল থেকে বিদায় অনুষ্ঠান দিবে। শুনেই বুকে ধাক্কা খেয়েছিলাম। যেদিন আমরা বিদায় অনুষ্ঠানে গেলাম আমাদের সহপাঠী এবং শিক্ষক/শিক্ষিকা কারো মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছিলনা। সবার চেহারাতেই কান্নার ছাপ, শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের বুকে নিয়ে অঝোরে কান্না, পরে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে তাদের দোয়া নিয়ে বাড়ি ফিরতাম। সেই বিদায় অনুষ্ঠান গুলো ছিল সামাজিক এবং অর্থবহ। কিন্তু বর্তমানের বিদায় অনুষ্ঠানের অর্থই বদলিয়ে দিয়েছে এই আধুনিক র‍্যাগ ডে।

আমাদের ইসলামে র‍্যাগ ডে কে ভাল চোখে দেখা হয়না। র‍্যাগ ডে একটি বিজাতীয় সংস্কৃতি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল বা সম্পর্ক রাখবে, তাদেরকে অনুসরণ-অনুকরণ করবে সে তাদের দলভুক্ত হবে। অর্থাৎ তার হাশর তাদের সাথে হবে
[ সূনানে আবু দাউদের একটি প্রসিদ্ধ হাদিস ]

র‍্যাগ'ডে তে সাধারনত গান বাজনার আয়োজন করা হয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল সাব্যস্ত করবে
[ সহীহ বুখারী হাদীস : ৫৫৯০]

এবার আসি র‍্যাগ'ডে তে রং খেলাখেলি হয়ে থাকে নারী পুরুষ একসাথে নাচানাচি হয়ে থাকে। যেখানে সরাসরি ব্যভিচার হয়ে থাকে।

আল্লাহতালা বলেন, আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং ধ্বংসের পথ। [ সূরা বনি-ইসরাঈলঃ ৩২]

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী র‍্যাগ ডে পালন করা জায়েজ নেই। এটি ইসলাম সমর্থিত নয়। অনেকটা জুলুমের কাজ এখানে করা হয়। তবে যদি শিক্ষার্থীগন পর্দা মেনে গুনাহ মুক্ত পরিবেশে স্কুলের শেষ দিনে পরস্পর সন্তুষ্টি চিত্তে টাকা তুলে খাবারের আয়োজন করে,তাহলে উলামায়ে কেরামগন সেটির অনুমোদন দিয়েছেন।

পরিশেষে, আমাদের সমাজের সুশীল ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসন, গুনীজন সহ সবাই কে এগিয়ে আসতে হবে এই র‍্যাগ ডে কালচার কে বন্ধ করতে।
আধুনিকতার নামে বন্ধ হোক নৈতিক অবক্ষয়তা, বন্ধ হোক সামাজিক বিপর্যয়, বন্ধ হোক অমানবিকতা!