রায়গঞ্জে ভূয়া এনজিও খুলে কোটি টাকা লুটপাটের পায়তারা

রায়গঞ্জে ভূয়া এনজিও খুলে কোটি টাকা লুটপাটের পায়তারা

রায়গঞ্জ ডেস্কঃ



সিরাজগঞ্জে রায়গঞ্জের হাট-পাঙ্গাসীতে আল-আমিন বহুমুখী সমবায় সমিতির লিমিটেডের নামে ভূয়া এনজিও খুলে সাধারণ গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা লুটপাটের পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে অনুমোদন বিহীন প্রতিষ্ঠানটি।

জানাযায়, উপজেলার পাঙ্গাসী বাজার এলাকায় দীর্ঘ তিন বছর যাবৎ কোন প্রকার ব্যানার ছাড়াই এ অবৈধ প্রতিষ্ঠানটি তাদের সুদের কারবার পরিচালনা করলে আসছে প্রশাসন কে বৃদ্ধা আঙ্গুলী দেখিয়ে।

এই তিন বছরে অনুমোদন বিহীন প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪ শতাধিক গ্রাহকের সাথে উচ্চ সুদে টাকা পয়সা লেনদেন করেছে। এই অনুমোদন বিহীন প্রতিষ্ঠানটি উচ্চ হারে সুদের বিনিময়ে ঋন প্রদান করে থাকে। কোন সদস্য যদি ৬০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহন করেন, তাঁকে ২৪ কিস্তিতে ৩১৫০ টাকা করে মোট ৭৫৬০০ টাকা দিতে হয়। সেই সাথে বীমা খরচ ৮০০ টাকা ও অতিরিক্ত ৪০০ টাকা প্রদান করতে হয়। বীমার ৮০০ টাকা ও অতিরিক্ত ৪০০ টাকা নেয়ার কোন আইন নেই অনুমোদিত এনজিওর।

ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ৪ শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা সঞ্চয় আদায় করেছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও শাস্তি যোগ্য অপরাধ। একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান তখনই গ্রাহকদের কাছ থেকে সঞ্চয় আদায় করতে পারে, যখন তারা ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের থেকে অনুমোদন প্রাপ্ত হন। এদিকে আল-আমিন বহুমুখী সমবায় সমিতির নামে ভূয়া এনজিও এর সাথে সম্পৃক্ত গ্রাহকরা পড়েছে বিপাকে। তাদের মনে ভয়কাজ করতে সম্প্রতি ইভ্যালি কোম্পানির প্রতারণা দেখে। সংশ্লিষ্ট গ্রাহকগণ চিন্তায় আছেন এই অবৈধ এনজিও থেকে তারা কি তাদের সঞ্চয় ফেরত পাবেন। নাকি ইভ্যাালির কোম্পানির গ্রাহকদের মত প্রতারিত হবেন।

এ ব্যাপারে আল-আমিন বহুমুখী সমবায় সমিতির নামে ভূয়া এনজিও পাঙ্গাসী শাখার শাখা ব্যবস্থাপক মনোয়ার হোসেন হিরার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরা এই শাখাতে কিস্তিতে বিভিন্ন ধরনের পন্য সরবরাহ করে থাকি এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে সঞ্চয় আদায় করে থাকি। আমাদের কে আল-আমিন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড, সিরাজগঞ্জ থেকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

আমাদের কে কর্তৃপক্ষ যে কাজ করতে বলছে আমরা সেভাবেই কাজ করছি। আল-আমিন বহুমুখী সমবায় সমিতির নামে ভূয়া এনজিওর বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সমবায় সমিতিটির অনুমোদন দিয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলা সমবায় অফিস।

তবে সমবায় সমিতির নামে অনুমোদন নিয়ে এনজিও শাখা খোলা বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আর সমবায় সমিতির যে এলাকাটার জন্য অনুমোদন পায় তারা শুধু সেই এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

অন্য জায়গায় কোন ভাবেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। আল-আমিন বহুমুখী সমবায় সমিতির নামে ভূয়া এনজিওর বিষয়ে জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ সামিউল ইসলাম বলেন, এই সমবায় সমিতি অনুমোদন শুধু সিরাজগঞ্জ সদরের জন্য দেয়া হয়েছে।

আর সমবায় সমিতির নাম ব্যবহার করে এনজিওর কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমরা বিষয়টি অবগত ছিলাম না। আপনাদের থেকেই শুনলাম তদন্ত পূর্বক অবশ্যই প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ আল-আমিন বহুমুখী সমবায় সমিতির পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ মোকলেছুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের এনজিও চালানোর কোন অনুমোদন নেই।