শেখ হাসিনার উদারতাকে দুর্বলতা হিসেবে নিয়েছে হেফাজত: অধ্যাপক ডা. মিল্লাত

শেখ হাসিনার উদারতাকে দুর্বলতা হিসেবে নিয়েছে হেফাজত: অধ্যাপক ডা. মিল্লাত

ইউসুফ দেওয়ান রাজুঃ



আজকে টানা তিন দিন হলো মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ অতিক্রম করছে। সুতরাং আমরা চাই সকলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, সকলে মাস্ক পড়ি  পারলে দুটো করে মাস্ক পড়ি যাতে ডাবল সুরক্ষা পাওয়া যাবে এবং সব সময় হাত সাবান দিয়ে পরিষ্কার করি এবং আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি। শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে আমরা যেমন করোনার প্রথম ঢেউ সফলভাবে মোকাবেলা করেছিলাম ঠিক একইভাবে আমরা দ্বিতীয় ঢেউও মোকাবেলা করব।

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৩১৩তম পর্বে রবিবার (১৮ এপ্রিল) আলোচক হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন-  সংসদ সদস্য এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. শ্রী বীরেন শিকদার, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, অধ্যাপক ড. ফারুক মির্জা, বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, বেলজিয়াম বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোরের পাতার সিনিয়র রিপোর্টার উৎপল দাস।

অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত বলেন, আসলে আজকে আমার মনটা অনেক খারাপ কারণ গত কয়েকদিন ধরে আমার আশে পাশের অনেক প্রিয় মানুষ আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। নাম না জানা আরও অনেকেই এই করোনার তাণ্ডবে আমাদের ছেড়ে এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করছেন।

আজকে টানা তিন দিন হলো মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ অতিক্রম করছে। সুতরাং আমরা চাই সকলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, সকলে মাস্ক পড়ি পারলে দুটো করে মাস্ক পড়ি যাতে ডাবল সুরক্ষা পাওয়া যাবে এবং সব সময় হাত সাবান দিয়ে পরিষ্কার করি এবং আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি। সাথে সাথে আমাদের দেশে যে করোনার ভ্যাক্সিনেশন প্রক্রিয়া চালু হয়েছে তাতে আমরা সবাই যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করি। এখন আমি হেফাজত সম্বন্ধে বলতে গেলে বলা যায়, এদেশে নব্বইভাগের বেশির ভাগ মুসলমান। তারমানেই এই না যে এটা মুসলিম রাষ্ট্র তার মানে হচ্ছে এটা একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র। সেটা অন্য ধর্মের যে কয়ভাগ মানুষ থাকুক না কেন। একজন সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের যেমন অধিকার আছে এই দেশে, ঠিক আরও সবার ক্ষেত্রেও এই অধিকার সমভাবে প্রযোজ্য। এটি আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছিলেন এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা সেটা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। একটা কথা আছে কাউকেই পিছনে ফেলা রাখা যাবে না। অর্থাৎ সবাইকে সাথে করে নিয় এগিয়ে যাবো।

২০১৩ সালের ৫ মে সরকারবিরোধী দাবি-দাওয়া নিয়ে ঢাকায় দিনব্যাপী তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম। সেদিন রাতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদায় নেয় হেফাজতের কর্মীরা। সে সময়টিতে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সুস্পষ্টভাবে তাদের এই সহিংস তাণ্ডবে সাহায্য করার কথা বলেছিলেন এবং করেছিলেনও। তাদের সেসময়কার তাণ্ডবলীলা থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার তাদের যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনার উদারতাকে দুর্বলতা ভেবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ফের তাদের তাণ্ডব রূপ দেখিয়েছে। হেফাজতে ইসলাম নামে এই উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দেশের বিদ্যমান স্বস্তি এবং শান্তি বিনষ্টে বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালিয়েছিল। তাদের এই উগ্রতা অতীতের সকল তাণ্ডবকে হার মানিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ কখনোই এটা মেনে নিবে না। জনগণের জানমালের সুরক্ষা দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সন্ত্রাস, নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উসকানিদাতাদের তালিকা প্রস্তুত করে এদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে। আমি মনে করি এই অপশক্তি একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে যেমন পাকিস্তানিদের সাথে এক সূত্রে গাথা ছিল, ঠিক একইভাবে এরা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল এবং একইভাবে তারা যে বার বার পরাজিত হচ্ছে সেই মনকষ্ট থেকেই এবার ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে বিপদে ফেলার জন্য তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।