শ্রীলঙ্কাকে ১০৩ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ; মুশফিকের সেঞ্চুরি

শ্রীলঙ্কাকে ১০৩ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ; মুশফিকের সেঞ্চুরি

স্পোর্টস ডেস্কঃ



৯টা ৫১ মিনিট। তৃতীয়বার বৃষ্টি থামার পর ম্যাচ শুরু হলো। আম্পায়ার ঘোষণা দিলেন শ্রীলঙ্কার ২ ওভারে করতে হবে ১১৯ রান! শ্রীলঙ্কার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। এমন ম্যাচও কী জেতা সম্ভব! সম্ভব হয়নি। ১৫ রানের বেশি করতে পারল না তারা। বৃষ্টি আইনে শ্রীলঙ্কাকে ১০৩ রানে হারিয়ে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।    

মেঘ-বৃষ্টির লুকোচুরিতে দ্বিতীয় ওয়ানডে তিনবার বন্ধ হলো। বাংলাদেশের ইনিংসে প্রথম দফায় ২৬ মিনিট, দ্বিতীয় দফায় ৩৮ মিনিট পণ্ড হয়। শ্রীলঙ্কার ইনিংসে বন্ধ ৬৪ মিনিট! সব মিলিয়ে ১০৯ মিনিট পণ্ড হলো। তাতে ম্যাচের মজাটাই যেন শেষ।   

বাংলাদেশের করা ২৪৬ রানে জবাব দিতে নেমে ৩৮ ওভারে শ্রীলঙ্কার রান ৯ উইকেটে ১২৬। এরপর বৃষ্টি নামলে ম্যাচ নেমে আসে ৪০ ওভারে। শ্রীলঙ্কার নতুন লক্ষ্য ২৪৫। মানে ২ ওভারে করতে হবে ১১৯! এমন লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শ্রীলঙ্কার ইনিংস শেষ হয় ৯ উইকেটে ১৪১ রানে। 

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। এর আগে আট সিরিজে দুইটি ড্র করলেও জয়ে স্বাদ পায়নি কখনো। মিরপুরে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ। এ জয়ে বিশ্বকাপ সুপার লিগে আরও ১০ পয়েন্ট পেল বাংলাদেশ। তাতে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে তামিমের দল উঠে গেল শীর্ষে। পেছনে ফেলেছে ইংল্যান্ড, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়াকে।  

দুই ম্যাচে প্রায় একই চিত্রনাট্য। বাংলাদেশ জয় পেল সহজে। ম্যাচের নায়কও এক, বোলিং পারফরম্যান্স আঁটোসাঁটো এবং ব্যাটিং পারফরম্যান্স প্রশ্নবিদ্ধ। মেঘ-বৃষ্টির লুকোচুরির খেলায় বাংলাদেশের জয়ের নায়ক মুশফিকুর রহিম। ডানহাতি ব্যাটসম্যান আরেকবার দলের ত্রাতা হয়ে লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছেন। 

টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে ১৫ রানে তামিম ও সাকিব উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে মুশফিকের একার ১২৫ রানে বাংলাদেশ পায় লড়াকু পুঁজি। সেই রান তাড়া করতে পারেনি অতিথিরা। ফলাফল ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় বাংলাদেশের।

মুশফিকের আজকের লড়াইটা ছিল একার। আগের ম্যাচে তামিম ও মাহমুদউল্লাহ ফিফটি পেলেও আজ হাসেনি তাদের ব্যাট। তামিম ১৩ এবং মাহমুদউল্লাহ ৪১ রান করেন। মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকের জুটিতে আজ অবশ্য প্রতিরোধ পায় বাংলাদেশ। পঞ্চম উইকেটে আসে ১০৮ বলে ৮৭ রান। 

এরপর মুশফিকের আবার একার লড়াই। ৭০ বলে মাত্র ১ বাউন্ডারিতে চলে আসে হাফ সেঞ্চুরি। পরের ৪৪ বলে নামের পাশে যুক্ত হয় আরও পঞ্চাশ রান। তাতে মুশফিক পেয়ে যান সেঞ্চুরি। দৃষ্টিনন্দন একেকটি শট। ব্যাট-প্যাডের দারুণ রসায়ন এবং নিবিড় মনোযোগে মুশফিক অনন্য, অসাধারণ। মুশফিক মানেই নির্ভরতার প্রতীক। কৃতিত্বের সেই স্বাক্ষর রাখলেন ক্যারিয়ারের অষ্টম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে। 

ইনিংসের শুরুতে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন দলের প্রয়োজনে। শেষটায় আবার দলের প্রয়োজনে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসলেন। তাতে বাংলাদেশ পায় লড়াকু পুঁজি। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে মুশফিক আউট হন কভারে ক্যাচ দিয়ে। ধ্রুপদী ১২৫ রানের ইনিংসটি খেলতে ১২৭ বল খেলে মারেন ১০ বাউন্ডারি।

প্রবল সমালোচনার মধ্যেও সুযোগ পান লিটন। কাজে লাগাতে পারেননি। ৪২ বলে ২৫ রানে শেষ তার ইনিংস। সাকিবের ক্যারিয়ারের ১১তম ডাকের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তা যার তৃতীয়। মিথুনের পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া মোসাদ্দেকের ব্যাটও হাসেনি। ১০ রানে শেষ তার ইনিংস। লিটন, মোসাদ্দেক ও মাহমুদউল্লাহর উইকেট নিয়ে চায়নাম্যান লাকশান সান্দাকান দ্যুতি ছড়ান।