সাতদিনেও খোঁজ মেলেনি বেলকুচিতে অপহৃত কিশোরী শারমিনের

সাতদিনেও খোঁজ মেলেনি বেলকুচিতে অপহৃত কিশোরী শারমিনের

জুবায়েল হোসেইন (বেলকুচি)



সাত দিনেও উদ্ধার হয়নি সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে অপহরণ হওয়া কিশোরী শারমিন খাতুন (১৫)। 

এঘটনায় অপহৃত কিশোরীর বাবা বেলকুচি থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অপহ্নত শারমিন খাতুন বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামের সাখাওয়াত মোল্লার মেয়ে। 

কিশোরীর বাবা সাখাওয়াত মোল্লা বলেন, বাড়ির পাশ্ববর্তী খোদা বক্সের ছেলে জুয়েল রানা (৩৫) শারমিনকে প্রায় দিন উত্যাক্ত করে আসছিলো।

গত ১ এপ্রিল দুপুরে শারমিন খাতুন বাড়ি বাইরে বসে ছিলো। সেখানে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা জুয়েল রানা শারমিনের মুখ চেপে ধরে। এসময় শারমিনের চিৎকারে তার মা ও বাড়ির আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে জুয়েল রানা দ্রুত একটি সিএনজি করে শারমিনকে জোর পূর্বক অপহরন করে নিয়ে যায়। 

অপহরনের ঘটনায় বেলকুচি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করি। অভিযোগ দাখিলের পর থেকে জুয়েল রানার পরিবার হুমকী দিয়ে আসছে। আমি আমার পরিবার নিয়ে নিরাপত্তা হীনতায় রয়েছি। 

শারমিনের মা আয়শা সিদ্দিকা বলেন, আমার চোখের সামনে থেকে আমার মেয়েকে অপহরন করে নিয়ে গেছে জুয়েল। আমার মেয়ে জীবিত আছে না মৃত তাও জানি না।

এবিষয়ে জুয়েল রানার বাড়িতে গিয়ে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঘরে তালা ঝোলানো রয়েছে। কিছুক্ষন পর জুয়েল রানার সৎ মা খালেদা বেগম এসে বলেন, জুয়েল আমাদের কথা শোনে না। বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় ইউপি সদস্যকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম বলেন, অপহৃত শারমিন খাতুনের বাবা গত সোমবার ঘটনাটি আমাকে জানিয়েছেন। আমার মেয়ে অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে ব্যস্ত ছিলাম। এজন্য জুয়েলের পরিবারের সাথে কথা বলতে পারিনি। 

স্থানীয় রেহেনা বেগম বলেন, শারমিনের চিৎকারে আমি ও বাড়ির আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌছে দেখি জুয়েল একটি সিএনজি করে শারমিনকে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা দৌড়ে তাকে উদ্ধারে চেষ্টা করি। তার আগেই সে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়।


 
বেলকুচি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক বলেন, শারমিন খাতুনকে অপহরন করা হয়েছে বলে তার বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত সোমবার আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। শারমিনকে হাজির করতে তার পরিবারকে বলে এসেছি। আজ বুধবারের মধ্যে তাকে হাজির করতে না পারলে ওসি স্যারের সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।