সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে স্কুল ছুটি দিলেন পরিচালক!

সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে স্কুল ছুটি দিলেন পরিচালক!

আশরাফুল আলম (কাজিপুর)



নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে করোনা পরিস্থিতিতে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে ব্যক্তি মালিকানাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক বন্ধ রেখে ভেতরে চালানো হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। কোনো প্রকার স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এখানে শিশু-কিশোরদের শ্রেণি পাঠদান করানো হচ্ছে। উপজেলার পরানপুর এলাকায় ‘অন্যরকম বিদ্যানিকেতন স্কুল' নামে ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন কোচিং বাণিজ্য চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে ওই বিদ্যালয় এলাকায় অবস্থান নেয় স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক। মূল ফটকের সঙ্গে ছোট গেটটি সামান্য খোলা থাকলেও বিদ্যালয়টির মাঠ ও বহিরাঙ্গন থেকে পাঠদানের কোনো আলামত বোঝা যাচ্ছিল না। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর দুয়েকজন শিক্ষার্থীকে ছোট গেটটি দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। 

সাংবাদিকের উপস্থিতি বুঝতে পেরে একটু পরেই বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। পরে দেখা যায় সাইকেলের পেছনে বই বেঁধে শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরছে। এসময় তাদেরকে থামিয়ে জিজ্ঞাসা করলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, "ভোর থেকেই ক্লাশ শুরু হয় আমাদের। আজকে একটু আগেই ছুটি দিয়েছে। ইংরেজি পড়ান বিদ্যালয়ের পরিচালক বিএসসি ইয়াছিন আলী। পদার্থ বিজ্ঞান পড়ান অন্য একজন শিক্ষক।"

ক্যামেরা দেখে শিক্ষার্থীদের অনেকেই দৌড়ে পালায়। অনেকে আবার ক্যামেরার সামনে কথাও বলতে চান নি। কোন শিক্ষার্থীর মুখেই মাস্ক ছিল না। পরে অবশ্য সবাই মাস্ক পড়া শুরু করে।

বিদ্যালয়ে অবস্থানরত পরিচালকের ভাতিজা সবুজ জানান, এখানে কোন শিক্ষার্থী পড়তে আসে না। এটা ভূয়া খবর। 

পরিচালকের স্ত্রী আফরিন জানান, আমরা বিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়েছি। শিক্ষার্থীরা ফরম পূরণের জন্য বিদ্যালয়ে আসে। তবে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কোন্ পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে আসে জানতে চাইলে তারা জানান এগুলোর কিছুই জানি না আমরা। 

বিদ্যালয়টির পরিচালক ইয়াছিন আলী জানান, "আমার স্কুলে কোন ক্লাস চলে না। তবে জেএসসি ফরম পূরণের জন্য ছাত্ররা এসেছিল।"   

এ ব্যাপারে কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।  

উল্লেখ্য, বিদ্যালয়টি গত বছর করোনার প্রথম ধাপে লকডাউন চলা কালেও পাঠদান চালিয়েছে। সে সময় এ সংক্রান্ত একটি সংবাদও প্রকাশ হয় জাতীয় সহ স্থানীয় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়।