সিরাজগঞ্জে প্রতারণার দায়ে স্ত্রীর মামলায় স্বামী-শ্বশুরসহ ৬জন কারাগারে

সিরাজগঞ্জে প্রতারণার দায়ে স্ত্রীর মামলায় স্বামী-শ্বশুরসহ ৬জন কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ



স্ত্রী’র দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় উল্লাপাড়ার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের উপ-সহকারী কর্মকর্তা কৃষি রেজাউল করিম নামে এক সরকারি কর্মকর্তাসহ তার বাবা গাজীউর রহমান, ভাই মো: রেজাউল করিম, মো: রায়হান আলী, মো: আব্দুর রহিম, মো: বশির উদ্দিন ও ছোট ভাই মো: রওশন আলীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

বুধবার (২৭ আক্টোবর) সিরাজগঞ্জের জজ কোর্ট এর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের বিচারক শেখ মো:  নাসিরুল হক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, হাটিকুমরুল ইউনিয়নের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিম রিপন গত ০৫/০৮/২০১৪ইং তারিখে সামাজিকভাবে উল্লাপাড়া ঝিকিড়া গ্রামের মো: মজনু মিয়ার মেয়ে মোছা: তানজিন শুভ এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিবাহে বন্ধনে তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি কন্যা সন্তানও ঘরে আসে। কিন্তু যৌতুক লোভী রেজাউল করিম বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের টাকা জন্য স্ত্রী শুভকে বিভিন্ন সময়ে মারপিট, অমানবিক নির্যাতন, অত্যাচার করে আসত।

মারপিট, নির্যাতন, অত্যাচার সহ্য না করেতে পেরে স্ত্রী তানজিন শুভ গত ০৯.১১.২০২০ইং তারিখে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১, সিরাজগঞ্জে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ৫৩২/২০২০

নারী ও শিশু নির্যাতন এর মামলার হাত থেকে বাঁচতে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে গত ১৬/০৭/২০২০ইং তারিখে উল্ল¬াপাড়া পৌরসভা কার্যালয়ের প্যাডে মেয়র এস.এম নজরুল ইসলাম এর স্বাক্ষর জাল করে তালাকনামার প্রমাণস্বরুপ একটি প্রত্যয়ণপত্র তৈরী করেন।

প্রত্যয়ণপত্রটি গত ৯.০৬.২০২০ইং তারিখে উল্লাপাড়ার বালসাবাড়ি পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে বেলা ১০.৩০ মিনিটে মোছা: তানজিন শুভ এর নামে পোষ্ট করেন এবং ঐদিনই ০৯.০৬.২০২০ইং তারিখেই বেলা ১২.১৫ মিনিটে প্রেরক মো: রেজাউল করিম নিজেই উত্তোলন করেন।

পৌর মেয়র সম্বলিত চিঠিটি প্রাপক মোছা: তানজিন শুভ এর নিকট পৌছায় নাই এই মর্মে পোষ্ট মাষ্টার মো: সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রাপক তানজিন শুভকে প্রত্যয়ণপত্রও দিয়েছেন। প্রত্যায়ণপত্রে বলা হয়েছে, ০৯.০৬.২০২০ইং তারিখে মো: রেজাউল করিম একটি চিঠি পোষ্ট করে যাহার রেজি নং-৯১৭, অদ্য দিবসে ১২.১৫ মিনিটেই পুনরায় প্রেরক নিজেই উত্তোলন করে গ্রহণ করেন। চিঠিতে প্রাপক মোছা: তানজিন শুভ এর নিকট পৌছায়নি।

গত ২৯ অক্টোবর ২০২০ইং উল্লাপাড়া পৌরসভা কার্যালয় থেকে মেয়র এস.এম নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পত্রে (স্মারক নং-উল্লা/পৌর/প্রশা/সালিশ/২০২০/৫৮৬) এ ধরনের কোন প্রত্যয়ন পত্র দেয়া হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

অপরদিকে একটি চিঠি বিলির ক্ষেত্রে উল্লাপাড়া উপজেলা সদরের ডাক বিভাগের পিয়ন মোঃ আব্দুল লতিফের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। পৌর মেয়র ও ডাক বিভাগ থেকে এ বিষয়ে আলাদা দুটি প্রত্যয়ন পত্র দেয়া হয়েছে। এতে প্রত্যয়নপত্র ও স্বাক্ষর জাল করার বিষয়টি স্পস্ট হয়েছে। রেজাউল করিম এর প্রত্যয়নপত্র সম্পূর্ণ ভূয়া মর্মে পৌর মেয়র এসএম নজরুল ইসলাম তালাকনামা প্রমাণস্বরুপ প্রত্যায়নটি সম্পূর্ণ ভুয়া তার একটি প্রত্যয়ণপত্রও মোছা: তানজিন শুভকে দিয়েছেন।

উল্লাপাড়া উপজেলা কয়ড়া কৃষ্টপুর গ্রামের গাজীউর রহমান পুত্র মো: রেজাউল করিম পৈত্রিক নিবাস হলেও রেজাউল করিম হাতিয়া, ধীত, ডাকঘর: হাতিয়া, জেলা: সুনামগঞ্জ ঠিকানায় ভুয়া জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরী করে চাকুরী গ্রহণ করেন। কাবিন নামায় উল্লাপাড়ার ঐ ঠিকানা লেখা আছে।