সিরাজগঞ্জে ফুলচাষে স্বাবলম্বী কৃষকেরা

সিরাজগঞ্জে ফুলচাষে স্বাবলম্বী কৃষকেরা

ফিচার নিউজঃ



মাতৃভাষা দিবস, জাতীয় অনুষ্ঠান, প্রেম-ভালবাসাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফুলের কদর অনেক। বিশেষ করে রজনীগন্ধা, গোলাপ ও বেলী ফুল যুবক-যুবতীর ভালবাসার প্রতীক এ সমাজে। এসব ফুলের বাগান করে লাভবান হচ্ছে কৃষকেরা।

প্রতি বছর ভালাবাসা দিবসের (১৪ ফেব্রুয়ারী)  সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই ফুল চাষীদের মধ্যে খুশির আমেজও সৃষ্টি হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে উল্লাপাড়া, কামারখন্দ, রায়গঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ ফুলের চাষাবাদ বেশি হয়ে থাকে। এবার এ ৩ টি উপজেলায় প্রায় ১৩ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ হয়েছে। তবে বগুড়া-নগরবাড়ি মহসড়কের উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের অনেক গ্রামে এ লাভজনক ফুল চাষে অনেকে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। যশোর ও বগুড়া মহাস্থানগড়সহ বিভিন্ন স্থান থেকে উন্নত জাতের ফুলের বীজ আমদানি করে এ ফুল চাষ করেছে কৃষকেরা। সারাবছরই তারা ফুল বিক্রি করে থাকেন। এ ফুল চাষে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে নারীসহ শ্রমিকের। এসব ফুল চাষের বাগানে গোলাপ, গাঁদা, সূর্যমুখী, কসমস, বেলী, স্টেক রজনীগন্ধা, ডালিয়া, জিপসি, আলমেন্দা, মালতি, গ্যালোরিয়াসসহ বিভিন্ন জাতের ফুল। যুবক-যুবতীসহ অনেকেই এসব ফুল বাগানের সৌন্দর্য দর্শন করতে আসে। এমনকি প্রেমিক প্রেমিকাদের মধ্যে এসব ফুল বিনিময়ও হয়ে থাকে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, মৌসুমি রবিশস্য চাষে খরচ বাদে তেমন লাভ হয় না। কিন্তু তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি লাভ হচ্ছে এসব ফুল চাষে। স্বল্প সময় ও অল্প খরচে ফুল উৎপাদন করা যায়। উৎপাদিত এসব ফুল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হয়। তবে প্রতি বছরই মাতৃভাষা দিবস, বিশ্ব ভালবাসা দিবস, ঈদ, পূজা, বাংলা ও ইংরেজি নববর্ষ পালনসহ বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে ফুলের দাম চড়া ও লাভ হয় প্রায় দ্বিগুণ। শহরাঞ্চলের ফুল ব্যবসায়ীরা বলছেন, জাতীয় দিবসসহ ভালবাসা দিবসে ফুলের কদর বেশি। তবে করোনা মহামারির কারণে ফুলের ব্যবসা তেমন জমে ওঠেনি। এ বছর অনেকটাই লাভের আশা করা হচ্ছে।ভালবাসা দিবস উপলক্ষে কয়েকদিন ধরে ফুলের দোকানে ভিড় জমাচ্ছে তরুণ তরুনীরা।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আবু হানিফ বলেন, উল্লাপাড়া, কামারখন্দ, রায়গঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এই লাভজনক ফুল চাষ হয়। কৃষকদের এ ফুল চাষসহ বিভিন্ন রংয়ের জার বেড়া ফুল ও ঔষুধি গাছের চাষাবাদে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তবে বর্তমানে গোলাপ, গাঁদা ও রজনীগন্ধার দাম বেশি। ফুল চাষসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ফুলের চারার নার্সিং ব্যবসা করে অনেক কৃষক স্বাভলম্বী হয়ে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।