সিরাজগঞ্জে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

সিরাজগঞ্জে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। দ্রুত পানি বাড়ায় প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। ঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেকে ঘরের মধ্যে উঁচু মাচা করে জীবনযাপন করছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি কাজিপুর পয়েন্টে ১৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত কয়েক দিন ধরে অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালি ও শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলবেষ্টিত ১২টি ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেকে বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছে। বাঁধের ওপর কোনোমতে ঘর তুলে থাকছে বানভাসিরা। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। একই সঙ্গে দেখা গেছে গবাদিপশুর খাদ্য সংকট। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ বানভাসিদের।

তবে জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ জানান, জেলার সার্বিক বন্যা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পানি বাড়লেও এখনো কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে আসেনি। তিনি আরও বলেন, বন্যায় প্লাবিত এলাকাগুলোতে তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তালিকা তৈরি হলে সেই অনুযায়ী ত্রাণ বরাদ্দ করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আরও দুই থেকে তিনদিন পানি বাড়লেও ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা নেই। তিনি বলেন, বর্তমানে সিরাজগঞ্জের নিম্নাঞ্চলগুলোতে বন্যা চলছে। তবে সেটা খুবই স্বাভাবিক।

নদীমাতৃক এ জেলাতে প্রতি বছরই এমন বন্যা হয়ে থাকে। নদীর অভ্যন্তরীণ নিম্নাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী অঞ্চল প্লাবিত হয়। এখন পর্যন্ত আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। আগামী দুই তিনদিন পানি বাড়লেও শঙ্কার কিছু নেই বলে জানান এ কর্মকর্তা।