সলঙ্গায় গভীর রাতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে অবৈধভাবে দোকানপাট ভাংচুর ও জায়গা দখলের চেষ্টা

সলঙ্গায় গভীর রাতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে অবৈধভাবে দোকানপাট ভাংচুর ও জায়গা দখলের চেষ্টা

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের পাঁচলিয়া বাজারে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে গভীর রাতে ইস্কেভেটর দিয়ে  দোকানপাট ভাঙ্গচুরের ঘটনা ঘটেছে। 

এতে দুটি দোকানের প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত ববৃহস্পতিবার  গভীর রাতে ইস্কেভেটর মেশিন দিয়ে পাঁচলিয়া বাজারের হাজী আব্দুল ওয়াহাব গং এর জায়গায়   অবস্থিত  মার্কেটের বাবলুর মোবাইলের দোকান ও কাপর ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের  দুটি দোকান ভাঙ্গচুর করে শহিদুল ইসলাম গং ও তার সহযোগীরা।  এ সময় কাপর ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের অনুমানিক  প্রায় দু লক্ষ্য টাকার কাপর, গামছা লেপতোষক ও মোবাইল ব্যবসায়ী বাবলু মিয়ার অনুমানিক প্রায় তিন লক্ষ্য টাকার মালামাল সহ অভিযুক্তরা ইস্কেভেটর দিয়ে দোকানপাট গুড়িয়ে দেয়।

সলঙ্গা থানা-পুলিশ ঘটস্থালে পৌছলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। সলঙ্গা থানা পুলিশ ইস্কেভেটর ও ইস্কেভেটর পরিবহনের লোবেট গাড়ি জব্দ করে এবং  ইস্কেভেটর এর ড্রাইভার হেলপার ও লোবেট চালককে আটকের পর কোর্টের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরন করেন।

এ বিষয়ে  পাঁচলিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল বারীর ছেলে হাজী আব্দুল ওয়াহাব জানান,  সলঙ্গা থানার পাঁচলিয়া মৌজার সিএস খতিয়ান ১৬১/১ এসএ দাগ নং ৩২৭ আর এস ১৭৬/১৭৫ সাবেক দাগ ৫৮৭ আর এস ৮৫৯ এর ৭৮ শতক জায়গা নিয়ে আলোকদিয়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম (৫৬), মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মনির হোসেন (৪৪) আজিজুলের ছেলে আমিনুল ইসলাম (৫৬) সর্বসাং আলোকদিয়া গং দের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।

আমি গত ২৫ তারিখে আদালতের সরণাপন্য হয়ে ১. শহিদুল ইসলাম (৫৬) ২. মনির হোসেন (৪৪) পিতা-মৃত আব্দুল কুদ্দুস ৩. আমিনুল ইসলাম (৫৬) পিতা -আজিজল সর্ব সাং - আলোকদিয়া ও ৪. রবিউল ইসলাম (৩০) পিতা- মোঃ নুরুল ইসলাম কালের পাড়া ধুনট  ৫. লিপি খাতুন ( ২৯) পিতা- টুটুল হোসেন সাং - জয়পুর থানা - শাহজাদপুর ৬. মোছাঃ আলেয়া খাতুন (৩৯) পিতা- মনোয়ারুল সাং - সুজাপুর ৭. মনিরুল ইসলাম ( ৩৪) পিতা- মৃত আব্দুর রশিদ সাং- আলোকদিয়া ও ৮. মোছাঃ নাজমা খাতুন ( ৩২) পিতা- শামছুল আলম সাং তারুটিয়া থানা - সলঙ্গা  দ্বয়ের বিরুদ্ধে এম আর মামলা দায়ের করি যার জি আর নং - কোর্ট থেকে বিবাদীদের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা জারি করলেও  বিবাদীগন শহিদুল, মনিরুল ও  রবিউল ইসলাম ও  নাজমা আক্তারের নির্দেশে রাতেই ইস্কেভেটর মেশিন দিয়ে আমার জায়গায় নির্মিত মার্কেটের দুটি দোকান গুড়িয়ে দেয় এবং প্রায় অনুমানিক ১০  লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন করে। সাকাওয়াত হসপিটালের মার্কেটিং ম্যানেজার নাজমার ইন্ধনে শহিদুল, মনিরুলরা দোকানপাট মার্কেট গুড়িয়ে দিয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর উপযুক্ত  বিচার চাই । 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত  মনিরুল ইসলাম প্রতিবেককে জানায়,  ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে আমরা ভুল করেছি। আমাদের বিরুদ্ধে মামলা হলে যে শাস্তি হোক আমরা মাথা পেতে নেব। 

আরেক অভিযুক্ত নাজমা আক্তার মোবাইল ফোনে প্রতিবেদককে জানায়,  আপনারা আমার সাথে দেখা করবেন আমি আপনাদের চা নাস্তার ব্যবস্থা করব। 

ডাঃ রবিউল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি  বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা  আমি সবে মাত্রই অবগত হলাম। 

এ বিষয়ে   সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  ওসি আব্দুল কাদের জিলানী বলেন,১৪৪ ধারা ভঙ্গের দায়ে  তিনজনকে আটক করা হয়েছে । মামলা হয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।