সলঙ্গায় বাদী ও সাক্ষীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

সলঙ্গায় বাদী ও সাক্ষীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

এক্সপ্রেস ডেস্কঃ



সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে নির্মানাধীন বহুতল ভবন ভাংচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে মামলার করার পর এবার ওই মামলার বাদী ও সাক্ষীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে।

রবিবার সকালে আগের মামলার আসামী সলঙ্গা থানা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক রিয়াদুল ইসলাম ফরিদ সরকার বাদী হয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট (আমলী) আদালতে মামলাটি দায়ের করেন বলে বাদী পক্ষের আইনজীবী এ্যাড: আব্দুল আজিজ জানান। তিনি বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিরাজগঞ্জ ডিবি পুলিশকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় নির্মানাধীন বহুতল ভবন ভাংচুর ও চাঁদাবাজি মামলার বাদি স্কুল শিক্ষিকা জাকিয়া সুলতানা এবং তার বাবা ঘুড়কা ইউপির চেয়ারম্যান ও সলঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জিল্লুর রহমান সরকারকে আসামী করা হয়েছে।

মামলার বাদীর অভিযোগ, শিক্ষিকা জাকিয়া সুলতানা সলঙ্গা বাজারের ধান হাটায় জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে অবৈধ ভাবে স্থাপনা নির্মাণ করতে ছিল। এলাকার জনগণ তার নির্মানাধীন অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দিয়েছে। এ ঘটনায় জাকিয়া সুলতানা গত সোমবার নিজে বাদী হয়ে সলঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি রায়হান গফুর, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান লাভু ও যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক রিয়াদুল ইসলাম ফরিদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে জাকিয়া সুলতানা  উল্লেখিতদের নামে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর ভিডিও তৈরি তার ফেইসবুকে পোস্ট করে প্রচার করেন। ওই ভিডিওটি তার বাবা ঘুড়কা ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান সরকারও তার ফেসবুকে শেয়ার করেন। এতে মামলার বাদীসহ সলঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের মানহানি হয়েছে। যে কারনে বাদী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন।

আগের মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, সাড়ে ৩ শতক জায়গায় বহুতল ভবন নির্মান করার সময় সলঙ্গা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি রায়হান গগফুর, সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান লাভু ও সলঙ্গা থানা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক রিয়াদুল ইসলাম ফরিদ সরকার বাদী জাকিয়া সুলতানার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় শনিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামীরাসহ  অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জন ঘটনাস্থলে পৌছে ভেকু মেশিন দিয়ে বাদীর নির্মানাধীন ভবনের সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলেছেন। এতে বাদীর ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। যে কারনে তিনি গত সোমবার দ্রুত বিচার আইনে আদালতে মামলা করেন।

সলঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ঘুড়কা ইউনিয়ন পরিষেদর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জিল্লুর রহমান সরকার বলেন, আমার মেয়ে সলঙ্গা বাজারে সাড়ে ৩ শতক জায়গায় বহুতল ভবন নির্মান করার সময় সলঙ্গা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি রায়হান গগফুর, সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান লাভু ও সলঙ্গা থানা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক রিয়াদুল ইসলাম ফরিদ সরকার বাদী জাকিয়া সুলতানার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় শনিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামীরাসহ  অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জন ঘটনাস্থলে পৌছে ভেকু মেশিন দিয়ে বাদীর নির্মানাধীন ভবনের সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলেছেন। এর প্রতিবাদ করার জন্যই তারা আমার ও আমার মেয়ের নামে আক্রোশ মুলক ভাবে মামলাটি করেছে।