হাটিকুমরুলে পচা চামড়ার গন্ধে জনজীবন অতিষ্ঠ

হাটিকুমরুলে পচা চামড়ার গন্ধে জনজীবন অতিষ্ঠ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ



সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় থানার হাটিকুমরুল ইউনিয়নে অবস্থিত হাটিকুমরুল গোলচত্তর যাকে ঘিরে হাজার হাজার লোকের বসবাস।

হাটিকুমরুলে গোলচত্তর পাবনা রোড বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত সিরাজগঞ্জ জেলা চামড়া ব্যাবসায়ী কল্যাণ সংস্থা যার লাইসেন্স  নং দেখানো হয়েছে সমাজ সেবা (সিরাজগঞ্জ) -১০৫৩ এর আওতায়।

ময়লা-আবর্জনা ফেলে নিদিষ্ট কোন জায়গা না থাকায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পরছে।

নিদিষ্ট কোন স্থান বা সীমানা প্রাচীর না থাকায় এসব ময়লা আবর্জনা আশেপাশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলছেন । কিন্তুু প্রতিনিয়ত ময়লা-আবর্জনা ফেলে আসছে চামড়া ব্যাবসায়ীরা । এসব কারণে এলাকায় স্থায়ী দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে। এবার সেই স্থায়ী দুর্গন্ধকেও ছাড়িয়ে গেছে পশুর চামড়ার কারণে। 

প্রথম দিকে কিছুটা  ঠিক থাকলেও গত দুদিন থেকে এসব চামড়া পচা গন্ধের কারণে স্থানীয়রা ঠিকতে পারছেন না। 

হাটিকুমরুলে সিরাজগঞ্জ জেলা চামড়া ব্যাবসায়ী কল্যাণ সংস্থা হওয়ার কারনে সিরাজগঞ্জ রোড গোলচত্তর  এলাকার চতুরদিকে এই দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। আর এই দুর্গন্ধের কারণে প্রায় পাঁচ  কিলোমিটার জায়গাজুড়ে চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আর এসব চামড়া পচার কারণে পানির সাথে মিশে নানা ধরণের রোগ জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে এছাড়া পচা চামড়ার কারণে বিভিন্ন ধরণের ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি হয়ে বিভিন্ন ধরণের রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন এলাকার স্থানীর সচেতন মহল।

সিরাজগঞ্জ রোড এলাকায় ময়লা ফেলার কারণে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন থেকে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কিন্তু পশুর পচা চামড়ার কারণে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে আমরা উপজেলার ইউ এনও এর  সাথে আলোচনা করবো। যাতে তিন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

এবিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা চামড়া ব্যাবসায়ী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, আমরা কাউকে পরোয়া করি না আমাদের গতিতে আমরা চলবো। আপনি আমাদের নেতা সাবুর সঙ্গে কথা বলেন, তিনি আপনাদের সাথে কথা বলে চা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেবে।

পশুর পচা চামড়ার গায়ের সাথে লাগিয়ে থাকা মাংসগুলো ছাড়িয়ে আপনারা কি করেন প্রশ্ন করলে  উত্তরের অত্র প্রতিষ্ঠান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, আমার চামড়া পট্টি সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, ১৭০ টাকা কেজি  দরে সেগুলো বিক্রি করে হালিম অয়ালাদের  কাছে । আর যেগুলো দিয়ে হালিম বানিয়ে বিক্রি করে হালিমের দোকানদাররা ।

আর এসব নোংরা ও পচা খাবার খেয়ে প্রতিদিন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন হাজার হাজার সাধারন মানুষ।

এসব চামড়া এভাবে খোলা জায়গায় ফেলা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কোনভাবেই কিছুতেই চামড়া সমিতির পক্ষ থেকে এটা করা উচিৎ হয়নি বলে দাবী এলাকার সচেতন মহলের ।

পচা চামড়া  ফলে মহামারি দেখা দিতে পারে। কারণ পশুর চামড়া থেকে ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়ে পরিবেশের সাথে মিশে পরিবেশ দূষিত করবে। বৃষ্টির পানির সাথে জীবাণু বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে নদীনালা ও খালের পানির সাথে মিশে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে। সব কথার শেষ কথা খোলা জায়গায় এসব চামড়া ফেলার কারণে মহামারি দেখা দিতে পারে। বিভিন্ন ধরণের রোগ সৃষ্টি হবে। এটা হাটিকুমরুল বাসীর জন্য একটি বড় ধরনের হুমকি। তাই যত দ্রুত সম্ভব পচা চামড়াগুলো মাটির নিচে পুঁতে ফেলে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে দুর্গন্ধ দূর করতে হবে। তাতে যদি কিছুটা স্বাস্থ্য ঝুঁকি দূর হয় তবে বাঁচা যায়।

এবিষয় উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মওদুদ আহমেদ জানান, চামড়া সমিতির বৈধ কোনো কাগজপত্র আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।